অবশেষে ভারতের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি। এখন অপেক্ষা লোকসভায় বিলটি পাস হওয়ার। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই বিলটি লোকসভায় পাস হতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যমে।
স্যার শেরিল রেডক্লিফ ১৯৪৭-এ ভারত-পাকিস্তান ভাগ করতে গিয়ে যে সীমান্ত রেখা টেনেছিলেন সেই হিসেবে এক সময়ের পূর্ব পাকিস্তানই এখন বাংলাদেশ। যার তিন দিকে ভারত। অদ্ভুত সেই সীমানা রেখার কারণেই এই সীমান্ত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম। যার আয়োতন ৪ হাজার ১শ ৫৬ কিলোমিটার।
অথচ দীর্ঘ এই সীমান্ত চিহ্নিত নয় এখনও। ১৯৭৪-এ মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে সীমান্ত এবং অপদখলীয় জমির হিসাব পরিস্কার উল্লেখ থাকলেও ভারতের পার্লামেন্টে বিলটি পাস না হওয়ায়, তার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ঝুলে থাকা সেই সীমান্ত সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যর্থ হয়েছে বারবারই।
সর্বশেষ মনমোহন সিংয়ের কংগ্রেস সরকার চেষ্টা করলেও বিরোধী জোট বিজেপি’র বাধায় সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। এবার নরেন্দ্র মোদির সেই বিজেপিই চাইছে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান। কিন্তু আবারও ভোটের রাজনীতির ফাঁদে পরে যায় সীমান্ত বিলটি।
আসামের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট নষ্ট হতে পারে এমন আশঙ্কায় আসামকে বাদ রেখেই চেষ্টা করা হয় সীমান্ত বিল পাসের। এবার বাধ সাধে কংগ্রেস। তবে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে মাথায় রেখে মোদি সরকার সোমবার সমঝোতায় বসে কংগ্রেসের সঙ্গে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ার পরই বিলটি পাসের উদ্যোগ নেয় ভারত।
মঙ্গলবার সকালেই বিলটি অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এখন তোরজোর চলছে রাজ্যসভা হয়ে বিলটি লোকসভায় পাস করার।
৮ মে পর্যন্ত চলবে ভারতের পার্লামেন্টের বর্তমান সেশন। পরের মাসে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের কথা মাথায় রেখে বিজেপি সরকার এই সেশনেই পাস করতে চাইছে বিলটি।






