২৬ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস, সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ওইদিন দেশে আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে। রামপাল প্রকল্প ভারতের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে বলেই কি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে হরতালের ডাক?
হরতাল আহ্বানকারীরা বলছেন, না। ওইদিনের হরতালের সঙ্গে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, শুধুমাত্র সুন্দরবন বিনাশকারীদের বিরুদ্ধেই এ হরতাল। সুন্দরবন রক্ষায় আমরা বাধ্য হয়ে হরতাল দিয়েছি।
ভারতে সাধারণতন্ত্র দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয় ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি তারিখে ভারত শাসনের জন্য ১৯৩৫ সালের ভারত সরকার আইনের পরিবর্তে ভারতীয় সংবিধান কার্যকরী হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করে। এটি ভারতের একটি জাতীয় দিবস।এই স্বাধীনতা আন্দোলনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত, প্রায় সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ অহিংস অসহযোগ আন্দোলন ও আইন অমান্য আন্দোলন।
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও অর্থনীতিবীদ আনু মুহাম্মদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: যখন হরতালের তারিখ ঠিক করা হয়, তখন জানা ছিল না একইদিনে ভারতে প্রজাতন্ত্র দিবস। তাছাড়া ২৬ তারিখ ভারত কেনো, অন্য যেকোনো দেশের দিবস থাকতেই পারে। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সঙ্গে আমাদের হরতালের কোন সম্পর্ক নেই।সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে ২৬ জানুয়ারি ডাকা আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছি এবং হরতাল সফল করতে দেশবাসীর সহায়তা চেয়েছি।
হরতালের মাধ্যমে ভারতকে কোনো বার্তা দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন: এ হরতালে ভারতকে কোনো প্রকার বার্তা দেওয়ার কিছু নেই। ভারতের অনেকেই আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছেন। তারাও সরাসরি রামপাল প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন।
আগে দেশের মানুষ সহিংস হরতাল দেখেছে, কিন্তু তাদের ডাকা হরতাল সম্পূর্ণ বিপরীত পরিবেশে হবে জানিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন: জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে সুন্দরবন রক্ষা পাবে। হরতালের দিন সুন্দরবন নিয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ক্লাস হোক রাজপথে। লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীদের স্থান হোক সুন্দরবন রক্ষার মিছিলে।
জাতীয় কমিটির ডাকা হরতালে বিএনপির সমর্থন দেওয়া প্রসঙ্গে আনু মুহাম্মদ বলেন, বিষয়টিকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। বিএনপি ছাড়াও অনেকে এই হরতালে সমর্থন দিয়েছে। আমরা চাই বৃহত্তর রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগও সুন্দরবন রক্ষার এই হরতালে সমর্থন দিক।
গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে ডাকা ২৬ জানুয়ারির আধাবেলা হরতাল সফল করতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় কমিটি।








