প্রথম গুলির শব্দ শোনা যাওয়ার পর পুরো ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় পরও ভারতের পাঞ্জাবের পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ৭ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছে, আহত অন্তত ২০ জন। ৬ জঙ্গির নিহতের দাবি করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। কিন্তু এখনও স্পষ্ট না, পাঠানকোট বিমান সেনা ঘাঁটি জঙ্গি মুক্ত কি না।
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ছয় জঙ্গি মারা গিয়েছে বলে সরকারি ভাবে বলা হলেও সেনাবাহিনী রাতেও বলেছে, তল্লাশি অভিযান চালু রয়েছে। বিমান ঘাঁটির ভেতরে এখনও জঙ্গি লুকিয়ে থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না নিরাপত্তাবাহিনী।
গত দু’দিনে ঠিক ক’জন জঙ্গি মারা গেছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা। ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানান, চার জঙ্গির দেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি দু’জনের দেহ ধ্বংসস্তূপে আটকে রয়েছে। সেগুলি বাইরে আনতে সময় লাগবে।
সেনা সূত্রে বলা হয়েছে, ওই বিমানঘাঁটির পরিধি প্রায় ২৪ কিলোমিটার। পুরো এলাকা তল্লাশি চালিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত সরকারি ভাবে ‘অপারেশন’ চলবে।
ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠন ইউনাইটেড জেহাদ কাউন্সিল (ইউজেসি)। সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে তারা জানিয়েছে, স্বাধীন কাশ্মীরের লক্ষ্যেই তাদের ‘হাইওয়ে স্কোয়াড’ ওই হামলা চালিয়েছে। ওই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো যোগসূত্র নেই বলেও উল্লেখ করে সংগঠনটি।
ছয় জঙ্গি মারা যাওয়ার পরও কিন্তু পাঠানকোট ঘাঁটি থেকে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। মোট ২১টি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
সেনা সূত্রে বলা হচ্ছে, জঙ্গিদের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক নষ্ট করতেই ওই বিস্ফোরণগুলি ঘটানো হয়েছে। আরও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা দেখতে ঘাঁটির কৌশলগত স্থানে গুলি চালিয়ে দেখা হচ্ছে পাল্টা গুলি ছুটে আসছে কি না। তাই রাত পর্যন্ত গুলির শব্দ শোনা গেছে।






