বার্মিংহাম থেকে: বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয় নিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত। রোহিত শর্মার সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক বিরাট কোহলির অপরাজিত ৯৬ রানে ৫৯ ডেলিভারি হাতে রেখেই বাংলাদেশের ২৬৪ পেরিয়ে আয়েশি জয় তুলে নেয় ভারত।
বাংলাদেশের দেয়া মামুলি টার্গেট ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের কাছে সহজ হয়ে যায় দুই ওপেনার শেখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার ১৫ ওভারে ৮৭ রানের পার্টনারশিপে। এবারের আসরের প্রথম তিন ম্যাচে এক সেঞ্চুরি আর দুই ফিফটি পাওয়া ধাওয়ান চার রানের জন্য ফিফটি পাননি। তবে চার ম্যাচে ৩১৭ রান তুলে এই বাঁহাতি ওপেনারই এবারের টুর্নামেন্টের সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী।
তার বিদায়ের পর অবিচ্ছিন্ন ১৭৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ভারতের ফাইনালে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতাটুকু সারেন রোহিত ও অধিনায়ক কোহলি। ৪২ নম্বর ওডিআই ফিফটিতে ৯৬ রানে অপরাজিত ইন্ডিয়ান ক্যাপ্টেন। ক্যারিয়ারে আট হাজার রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন এই ম্যাচে।
টুর্নামেন্টের আগের তিন ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরি পাওয়া রোহিত শর্মা একাদশ সেঞ্চুরি দিয়ে সেরেছেন ভারতের ফাইনাল যাত্রা। তার স্কোর অপরাজিত ১২৩।
এর আগে ব্যাটিং উইকেটে টস হেরেও প্রথমে ব্যাট। প্রথম ওভারে সৌম্যর প্লেইডঅনে বাংলাদেশের শুরুটা হতাশার। তিন নম্বরে সাব্বির ভারতীয় বোলারদের উপর চড়াও হতে গিয়ে সুবিধা করতে পারেননি। ৩১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরায় তামিম ও মুশফিকের ১২৩ রানের জুটি। শুরুতে ধীরলয়ের ব্যাটিং তামিমের। ব্যক্তিগত ১৬ রানে বোল্ড হয়েও পান্ডিয়ার নো-বলের কল্যাণে বেঁচে যান।
বাংলাদেশও পায় সমানে সমান লড়ার পুঁজি। ৬২ বলে তামিমের হাফসেঞ্চুরি। টুর্নামেন্টের চার ম্যাচে এক সেঞ্চুরি আর দুই ফিফটিতে ২৯৩ রান এই বাঁহাতি হার্ড হিটারের। সঙ্গে যোগ হল মুশফিকেরও ফিফটি। বাংলাদেশের স্কোর তখন তিনশোর পানে ছুঁটে চলেছে।
ছন্দপতন অকেশনাল স্পিনার কেদার যাদবের বলে। ৭০ রান করে বোল্ড তামিম। শুরু হল ব্যাটিং উইকেটে ভারতীয় স্পিনারদের দাপট। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাকিব ১৫’তে আউট জাদেজার বলে।
৬১ রান করে মুশফিক যাদবের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হতেই ম্যাচের লাগাম ভারতীয়দের হাতে। মোসাদ্দেক-মাহমুদউল্লাহরা বিপদ সামাল দিতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন আর রানের চাকায় গতি হারানো বাংলাদেশের ইনিংসে ফাইটিং টোটাল উঠল অধিনায়ক মাশরাফি’র ২৫ বলে পাঁচ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ৩০ রানের সৌজন্যে। শেষ দশ ওভারে ৫৭ রান যোগ করা বাংলাদেশের স্কোর ৭ উইকেটে ২৬৪।
রোববার লন্ডনের ওভালে ভারত-পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। যাতে টানা দ্বিতীয় শিরোপার হাতছানি ভারতের।








