পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের লাওয়াত এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোলার আঘাতে ১০ বেসামরিক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছে। একটি যাত্রীবাহী বাসে গােলার আঘাতে ৯ যাত্রী নিহত ও অন্তত ১১ জন আহত হয়। অন্য এক হামলায় আরো একজন নিহত হয়।
পাকিস্তানের আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বরাত দিয়ে দেশটির ইংরেজি দৈনিক দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার কাশ্মির সীমান্তে ৬ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার একদিন পর পাকিস্তানি সেনার হামলায় আরো ৩ সেনা সদস্য নিহত হয়। ভারতীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে এদের মধ্যে এক সেনার অঙ্গচ্ছেদের দাবি করা হয়। তবে সেনা হত্যার কথা স্বীকার করলেও অঙ্গচ্ছেদের অভিযোগ নাকচ করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাতে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্য করেও ভারতীয় বাহিনী হামলা চালায় বলেও দাবি করেছে পাকিস্তানের আইএসপিআর।
সব মিলিয়ে বুধবার ভারতীয় বাহিনীর আলাদা গোলার আঘাতে ১০ জন সাধারণ মানুষ নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়।
পাকিস্তানের নিলম ভ্যালির পুলিশ সুপার জামিল মীর ডনকে জানান, ভারতীয় বাহিনীর ছোড়া গোলার আঘাতে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী লাওয়াত শহরে যাত্রীবাহী ওই বাসটির নয় যাত্রী নিহত হন। এর মধ্যে চারজনের লাশ ও ১১ জন আহতকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি পাঁচটি লাশ এখনো দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ভেতরেই রয়েছে। যাত্রীবাহী ওই বাসটি মুজাফ্ফরাবাদে যাচ্ছিল।
এর আগে আজ স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে কাশ্মীরের নাকইয়াল এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলায় একজন নিহত ও ছয়জন আহত হন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে অংশে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইট অভিযান পরিচালিত হয়। এরপর থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর ৩০০টির বেশি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ২৩ জন ভারতীয় সেনাসহ মোট ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যপক্ষে পাকিস্তানের ৭ সেনাসহ নিহত হয়েছে ২০ জনের বেশি।








