মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে তাদের অনেকের স্বজন সেখানকার সেনাবাহিনী বা স্থানীয়দের হাতে নিহত হয়েছে। কারো কারো স্বজন ধর্ষণের শিকার, কেউ বা পালিয়ে আসার পথে রাস্তায় স্বজনকে হারিয়ে ফেলেছে।
পিতা-মাতাকে হারিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শিশুর সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। তাদের কেউ কেউ পরে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মা-বাবা কিংবা অন্য স্বজনকে খুঁজে পেয়েছে। তবে বেশিরভাগই এখনো খুঁজছে হারিয়ে যাওয়া মা-বাবাকে।
সেদিক থেকে কিছুটা ভাগ্যবান রোহিঙ্গা শিশু আমেনা ও ফরিদা।
‘আমরা অনেক খুশি যে আমাদের পরিবারের কোন সদস্যকে হারাতে হয়নি,’ এভাবেই ইউনিসেফের কাছে তার আপাতঃ স্বস্তির কথা জানায় শিশু আমেনা।
তবে, সে এটাও জানায়, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। সৌভাগ্য যে সেসময় তার পরিবারের কেউ নিহত হয়নি। দীর্ঘ যাত্রপাথেও হারাতে হয়নি কাউকে।
আমেনার কাছ থেকে জানা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর তাদের বাড়িতে আগুন দেয়ার পর তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর একটানা তিন দিন পায়ে হেঁটে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। সে এখন তার পরিবারের সদস্যদেরসহ কক্সবাজারের কুতুপালাং আশ্রয় শিবিরের বর্ধিত অংশে থাকে।
ফরিদার ঘটনাটাও একইরকম। সে-ও আশ্রয় পেয়েছে কুতুপালাং আশ্রয় শিবিরের বর্ধিত অংশে।
আমেনা এবং ফরিদার মতো শিশু এবং বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফের সহযোগিতা রোহিঙ্গা শিশু আমেনা ও ফরিদার মতো শিশুদের জীবনকে স্বাভাবিক করে তুলছে।
ছবি: ইউনিসেফ বাংলাদেশ








