৭ মার্চ রাজধানীর রাস্তায় কিশোরী নিগ্রহের ঘটনা ভাইরাল হওয়া এবং নিগ্রহের ঘটনায় আওয়ামী লীগের দায় না বলে দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে মত প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু।
স্ট্যাটাসে তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের রাজনীতির পরিশীলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
তিনি লিখেছেন:
‘আওয়ামী লীগের মতো সংগ্রামী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলকে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালনের জনসমাবেশে লোকসমাগম বাড়িয়ে দেখাতে বাসের বহর দিয়ে বস্তি-মহল্লা থেকে ‘কাউয়া’ ও ‘মুরগি’ টুকিয়ে আনতে হয় কেন? দলের ব্যানারে যে লাফাঙ্গাদের সংগঠিত করে সমাবেশে আনা হচ্ছে তারা রাস্তায় মেয়ে দেখে বেলেল্লাপনা করলে সাধারণ সম্পাদক বলেন ‘সমাবেশের বাইরে ঘটলে দায়িত্ব দলের নয়’। কী বিচিত্র যুক্তি! দায়িত্ব না এড়িয়ে নেতাদের যা করা উচিত তা হচ্ছে রাজনীতির ধরন-ধারণ, চলন-বলন বদলিয়ে পরিশীলিত ও যুগোপযোগী করা, গণমুখী করা।
ভাববেন না, আমি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বস্তি-মহল্লার আমজনতার অংশগ্রহণকে খাটো করে দেখছি। মোটেই তা নয়। আমরা ১৯৬২-৭১ সময়ে জনতার মিছিল ও মুক্তিযুদ্ধের মানুষ। ১৯৮২-৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন সাংবাদিক হিসেবে দেখেছি। ’৮৩-র ১৫ ফেব্রুয়ারি ড. কামাল হোসেনের বাসার সামনে থেকে সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলে গিয়েছি। সত্যিকার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও উত্থানে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নৈতিক মান উন্নত স্তরে ওঠে।
১৯৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান ও ’৭০-এর নির্বাচনকালে গ্রামাঞ্চলেও চুরি-ডাকাতি কম হয়েছে এবং ’৭১-এর ১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আসহযোগ আন্দোলনের বাংলাদেশে রাস্তায় কার্যত পুলিশ ছিল না কিন্তু কোনো মেয়ে হেনস্তা হয়নি। সেই আন্দোলনে ও অব্যবহিতপর মুক্তিযুদ্ধে অনেক ‘লাফাঙ্গা’ বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে যা ইতিহাসে লেখা আছে। সেই অধ্যায়ের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগই ছিল। আজও আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে শিশুকে ঘুম পাড়াতে ‘বর্গী এলো দেশে’ না বলে হয়তো ‘ছাত্রলীগ এলো দেশে’ গাইতে হবে, যদি রাজনীতি ও আওয়ামী লীগের সংস্কার ও পরিশীলন না হয়।’
বুধবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাংলামোটরে এক শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সমালোচনার। এর জবাবে অবশ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, নারী নিগ্রহের ঘটনায় আওয়ামী লীগের কোনো দায় নেই।







