কৌতুহলবশত কথিত ব্লু হোয়েল গেম খেলতে গিয়ে রাজধানীর মিরপুরের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের ৭০১ নম্বর ওয়ার্ডে বুধবার রাতে তৌফিককে ভর্তি করা হয়।
মিরপুর-১০ এর সেনপাড়ার সারোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র মো. তৌফিক (১৪)। সে কৌতূহলবশত ব্লু হোয়েল গেম খেলতো। খেলার নির্দেশনা মানতে গিয়ে নিজের শরীর ব্লেড দিয়ে ক্ষত করে ফেলে সে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন: ওই কিশোরের শরীরের ব্লেডের ক্ষত পাওয়া গেছে। এমনকি কিশোরটি আত্মহত্যার জন্য ঘুমের ওষুধও খায়। পুলিশ জানায়, পরিবার আর নিজের সচেনতাই এমন মরণ ফাঁদ গেম থেকে শিশু কিশোরদের রুখতে পারে।
ওই কিশোর জানায়, চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় আমি গেমটি খেলা শুরু করি। অ্যাডমিনরা অনেক সময় অপমান করে কথা বলতো, তাই আমি চ্যালেঞ্জগুলো পার করতাম। এখন একটু অসুস্থ বোধ করছি। আম্মুকে বলেছিলাম, এখানে আনলে আমি ভালো হবো না। তারপরও আমাকে নিয়ে এসেছে।
তৌফিকের বাবা মোহাম্মদ তানজিল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: পড়ালেখায় ভালো থাকায় পঞ্চম শ্রেণিতে তৌফিক ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল।
তিনি আরও জানান, কোরবানী ঈদের পর থেকে আমার ছেলের মধ্যে পরিবর্তন দেখা যায়। সে ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করতো না, মোবাইলে শুধু গেমস খেলতো। রাতে মোবাইল নিয়ে ছাদে হাঁটাহাঁটিও করত।
একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন: ব্লু হোয়েল গেম খেলতে গিয়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার ডান হাতে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে প্লাজমা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সে ভালো রয়েছে।
ব্লু হোয়েল অন্য গেমগুলোর মতো ইন্টারঅ্যাকটিভ নয়। এই গেমে খেলোয়াড়ের কাছে লিখিত বার্তায় গেম প্রশাসকের নির্দেশনা আসে। সেখানে একটা একটা করে কাজের নির্দেশ বা চ্যালেঞ্জ থাকে। সে কাজটা করার পর ছবি তুলে বা ভিডিও করে গেম অ্যাডমিনকে পাঠাতে হয়। এভাবে ৫০তম ধাপ বা ৫০তম দিনে সবশেষ নির্দেশটি আসে। এ নির্দেশ হলো আত্মহত্যা করার।
ব্লু হোয়েল গেম থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সর্বোপরি নিজের ও পরিবারের সচেতনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স ) সুমন কান্তি চৌধুরী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: অভিভাবকদের উচিত হবে সন্তানকে সময় দেওয়া, অনেক সময় সন্তানরা মোবাইলে ও কম্পিউটারে অধিক সময় গেমস এর পেছনে সময় ব্যয় করে। এইগুলো অভিভাবকদের খোঁজ রাখতে হবে তার সন্তান কখন কি করছে। বাবা মার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারিবারিক অটুট বন্ধন থাকলে এ মরণ ফাঁদ গেমস থেকে কিশোরদের বের করা যাবে।
তিনি আরও বলেন: কৌতুহলী মন নিয়ে এই গেমটি খেলার চেষ্টা না করায় ভালো। কৌতুহল থেকে এটি নেশাতে পরিণত হয়।








