হোয়াইট হাউজ করেসপনডেন্টস ডিনার পার্টির জন্য গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আচমকা একটা মেইল পেয়েছিলেন লেখক, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী আসিফ এন্তাজ রবি। সেখানে তাকে দাওয়াত দেয়া হয়। একদিনের নোটিশে উড়ে যান ওয়াশিংটন ডিসিতে। তারপর পহেলা মে সন্ধ্যায় যোগ দেন ওই মহা আয়োজনে।
ব্লগার পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন, এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পরে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সেবিষয়টি রবিও খেয়াল করেছেন, বুধবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তিনি একটি পোস্ট দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন বিষয়টি।
তিনি লিখেছেন, ঝটপট কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিই।
আমি কেন আমেরিকায়?
উত্তর হচ্ছে, একজন লেখক, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমার সাথে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার যোগাযোগ ছিল। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই যোগাযোগ আছে। তারা আমার কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত। হোয়াইট হাউস ডিনার পার্টিতে আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিলো বেশ আগেই। যেহেতু আমার আগে থেকেই আমেরিকার ভিসা ছিল, কাজেই হুট করে তারা ঠিক করে আমাকে নিয়ে আসার। আমিও একদিনের নোটিশে উড়াল মারি এবং গাট্টি বোচকা নিয়ে সেই পার্টিতে যোগ দিয়ে দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল করি। এতে অাকাশ থেকে পরার কিছু নেই।
দ্বিতীয় প্রশ্ন, আমি কি কোনো ধরণের হুমকির মধ্যে আছি?
এর উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ। একজন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমাকে ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হয়। হুমকি আমার জীবনের নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে হ্যা, সাম্প্রতিক সময়ের কিছু হুমকি আমার জীবনকে অতীষ্ট করে দিয়েছে। গত ছয়মাস আমি ঠিক মতো ঘুমাতে পারিনি। এবং আমি একা নই। সমাজের নানান স্তরের অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা হুমকির মধ্য দিনানিপাত করছেন। আমিও সেই দলের একজন অসহায় সদস্য।
তৃতীয় প্রশ্ন আরও জটিল। আমেরিকায় বসে আমি কি করছি বা কি বলছি?
আমার উত্তর, তেমন কিছু না। আমাদের দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে গোটা বিশ্ব অবগত। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমেরিকার সাংবাদিক, সুশীল সমাজ কিংবা কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে আমার কথা হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। আমি সবিনয়ে তাদের বলেছি, এই সমস্যা মোকাবেলায় সারা বিশ্বকে একযোগে কাজ করতে হবে। কেবল লম্বা লম্বা বিবৃতি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না।
চতুর্থ প্রশ্ন, আমি কি সরকারের বদনাম করেছি?
এর উত্তর হচ্ছে, আমি আমার হতাশার কথা বলেছি। সেটা বদনাম কিনা জানি না। সাম্প্রতিক সময় নিয়ে আমার সকল হতাশার মূলে আছে আওয়ামীলীগ এবং তার সাম্প্রতিক রাজনীতি। আমি আওয়ামী লীগের সদস্য না হলেও, এই দলের একজন একনিষ্ট সমর্থক। যে আওয়ামীলীগকে আমি চিনতাম এবং ভালবাসতাম, এটা সেই আওয়ামী লীগ নয়। এই দলের সাম্প্রতিক কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা আমাকে কেবল হতাশ নয়, রীতিমতো আতংকিত করেছে। আমি ভয়াবহভাবে বেদনার্ত শাসক দলের আচরণে।
পঞ্চম প্রশ্নটা সবচেয়ে মজার। আমি কি আদৌ দেশে ফিরবো?
সপ্তাহ খানেক পরে দেশে ফিরছি। কারও কিছু লাগলে ইনবক্সে জানাতে পারেন। নামমাত্র সার্ভিস চার্জে সেইসব জিনিস আমি খোদ আমেরিকা থেকে আপনাদের জন্য নিয়ে আসবো।
ষষ্ঠ প্রশ্নটা সবচেয়ে কঠিন কিন্তু এর উত্তর খুবই সহজ। দেশে ফিরলে আমাকে যদি কেউ মেরে ফেলে, তাহলে কি হবে?
আমি এবং আমার পরিবার লোক দেখানো মুসলমান নই। আমাদের চেতনা এবং বিশ্বাস থাকে অন্তরে। আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ যা করেন, আমাদের মঙ্গলের জন্যই করেন। আমাকে হত্যা করা হলে, আমার পরিবার বলবে, আল্লাহ যা করেছেন, ভালর জন্যই করেছেন। এটা আমাদের পারিবারিক শিক্ষা। এটাই আমার ইসলাম, আমার বিশ্বাস।
আল্লাহ আমার প্রভু
আমার নাহি নাহি ভয়
সবার জন্য ভালবাসা।







