ব্রেক্সিট বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ার পরও নতুন বাণিজ্য নীতি প্রণয়নের জন্য প্রায় দুই বছর সময় চেয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। ততোদিন ইইউ’র সঙ্গে বর্তমান নীতিতেই বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
নতুন প্রস্তাবনায় টেরেসা মে বলেছেন, ব্রেক্সিটের পর দু’বছরের মতো একটা সময় যুক্তরাজ্যকে দেয়া উচিত ইইউ সদস্যের তালিকা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার রূপান্তরকাল বা ট্রানজিশন পিরিয়ড হিসেবে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য এবং ইইউ আলোচনা করে নতুন বাণিজ্য নীতি প্রণয়ন করবে। আর ততোদিন আগের নীতিতেই দু’পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য চলবে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, ইইউ’র অভিবাসীরা ব্রেক্সিটের পরও যুক্তরাজ্যে থাকতে এবং কাজ করতে পারবেন। কিন্তু এজন্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের নিবন্ধন করে নিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও ইইউ বাজেটে অর্থ দেবে যেন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ঘাটতি না পড়ে।
নানা আইনগত জটিলতার কারণে এতদিন ধরে আটকে আছে ব্রেক্সিট সংলাপের অগ্রগতি। টেরেসা মে আশা করছেন, ইটালিতে দেয়া এক ভাষণে দেয়া নতুন প্রস্তাবনার মধ্য দিয়ে এই জট খুলে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।
মে নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তিও প্রস্তাব করেছেন, যাকে অনেকেই ‘সাহসী’ প্রস্তাব বলে মনে করছেন। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাজ্য এবং ইইউ পরস্পরের সবচেয়ে শক্তিশালী সঙ্গী ও বন্ধুতে পরিণত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য খাতে চলমান মডেলের বাইরে গিয়ে দু’পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে আরও অনেক ভালো কিছু করতে পারে। তবে এখন যে খাতে শুল্ক ধরা নেই সেখানে পরেও আরোপ করার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।

২০১৯-এর মার্চে ইইউ ত্যাগের পর প্রস্তাবিত প্রায় দু’বছর যুক্তরাজ্য ইইউকে কী পরিমাণ অর্থ দিতে প্রস্তুত, সে বিষয়ে টেরেসা মে কিছু না বললেও ধারণা করা হচ্ছে, পরিমাণটা হবে কমপক্ষে ২০ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১৮ বিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড।
ইইউ’র ব্রেক্সিট বিষয়ক প্রধান আলোচক মিশেল বার্নিয়ার মে’র এই ভাষণকে ‘গঠনমূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সামনে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তবে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, তিনি এতদিনে বাস্তবতাটা উপলব্ধি করেছেন যে, যুক্তরাজ্যে ব্যবসা ব্যবস্থা ও কর্মীদের জন্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ট্রানজিশন পিরিয়ড দরকার।
অন্যদিকে সাবেক ইউকেআইপি নেতা নাইজেল ফারাজ বলেছেন, ‘টেরেসা মের রূপকল্প হলো, আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ব ঠিকই, কিন্তু সেটা আসলে হবে নামমাত্র।’







