ব্রেক্সিট পরবর্তী ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমূল সংস্কারের যৌথ পরিকল্পনা নিয়েছেন ফ্রান্সের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ও জার্মানির চতুর্থবারের চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল।
শুক্রবার এস্তোনিয়ার তাল্লিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেনে এ সংস্কারের ঐকমত্যে এসেছেন অন্যান্য জোটভুক্ত দেশ। সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ছিলেন।
ব্রাসেলসে সংস্থাটির পরবর্তী সম্মেলনে সংস্কারের রূপরেখা চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে জানানো হয়। ইমানুয়েল মাক্রোঁ ও জার্মানির চতুর্থবারের মত নির্বাচিত চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের উচ্চাভিলাষী সংস্কার ভাবনাতে ইইউ ভুক্ত দেশগুলোতে জোটবিরোধী ভাবনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইউরোপের অনেক নেতা। তাদের মতে ভোটাররা এসব পরিকল্পনাকে গ্রহণ নাও করতে পারে। যার জেরে ব্রিটেন পাশাপাশি জার্মানির নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থীদের সংসদে আসন বৃদ্ধিকে অশনিসংকেত বলে মানছেন তারা।
এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে শুক্রবার ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজ শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ রয়টার্সকে জানান, একটি বিষয়ে আমরা সবাই একমত হয়েছি। তিনি আরো বলেন, অধিক সার্বভৌমত্ব-একতা আর গণতন্ত্র নিয়ে দ্রুত ও শক্তিশালী পথের যাত্রী হবে ইউরোপ।
ম্যাক্রোঁ বলেন, নতুন সংস্কারের জন্য ইইউ ‘ঐক্যমত্য’ পোষণ করে। তবে সম্মেলনের সভাপতি সাবেক পোলিশ প্রিমিয়ার ডোনাল্ড টাস্কস সতর্কতার সুরে সমস্যার সমাধানে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে বলেন।
এদিকে লিথুিনিয়ার প্রেসিডেন্ট ডালিয়া গ্রাইবাসকেট ইউরোপের অতি উচ্চাভিলাষী দিগন্ত এঁকেছেন বলে মন্তব্যের উত্তরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ইউরো জোটে ঐক্যের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, অনেক নতুন উদ্যোগে জনমতে বিরুপতা তৈরী হতে পারে। তা একসঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। তিন সপ্তাহ পরে জোটের দেশগুলো আবার মিলিত হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার প্রতিশ্রুতি আদায়ের জন্য সম্মেলনের সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান ম্যাক্রোঁ ।
সম্মেলনের নৈশভোজের আধা ঘন্টা আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল। তিনি ম্যাক্রোঁর বক্তব্যকে স্বপ্নদর্শী উল্লেখ করে বলেন, জোটের সহ প্রতিষ্ঠাতা ফ্রান্স আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের চালিকা শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট বলেন সব দেশকে তাদের নিজেদের অর্থনীতিতে সংস্কারের জন্য মনোযোগী হতে বলেন।
ব্রিটেনের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বৃদ্ধি সত্ত্বেও সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে ব্রেক্সিট বিষয়ক নানা বিষয়ে কথা বলার ইচ্ছা থাকলেও ইউরোপীয় নেতারা এ বিষয়ে কোন আগ্রহ দেখাননি। সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগে থেরেসো মে ন্যাটো বাহিনীতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ঘাঁটি পরিদর্শন করেন এবং ব্রেক্সিট পরবর্তী ইউরোপের সঙ্গে রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলায় কি ভাবে কাজ করবেন সে আলোচনা করেন।
শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ইউরো সীমানায় ডিজাটাল তথ্য আদান প্রদানের সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গোপনীয়তা নিশ্চিত ও অনলাইন ব্যবসা। অক্টোবরের ১৯-২০ তারিখ ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরবর্তী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।








