ব্রেক্সিট নিয়ে এমপিদের প্রস্তাবিত পরপর ৮টি খসড়ার প্রত্যেকটিই হাউজ অব কমনসের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি সমর্থনের বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়তে রাজি হয়েও সুফল পেলেন না টেরেসা মে।
এই ৮টি বিকল্প প্রস্তাবনার উদ্দেশ্য ছিল কী উপায়ে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করবে তার ওপর একটি সর্বসম্মতি আদায় করা।
কিন্তু ভোটে সবক’টি বিকল্প খসড়াই ব্যর্থ হয়ে যাওয়ায় কোনো চুক্তি ছাড়াই ১২ এপ্রিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়া হচ্ছে না যুক্তরাজ্যের।
ব্রেক্সিট বিষয়ক সচিব স্টিফেন বারক্লে’র মতে, ভোটের এই ফলাফল প্রস্তাবকারী মন্ত্রীদের এই দৃষ্টিভঙ্গিকেই দৃঢ় করেছে যে, তারা প্রত্যেকে নিজের প্রস্তাবটিকেই ‘শ্রেষ্ঠ বিকল্প’ ভাবছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার নিজ দলের এমপিদের সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মে কথা দেন, যদি পার্লামেন্টে ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে তার প্রস্তাবিত চুক্তিতে সমর্থনের নিশ্চয়তা দেয়া হয় তবে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদ ছেড়ে দেবেন।
দুই দফা ভোটে হারের পর তৃতীয় দফা ভোটের আগে বুধবার রক্ষণশীল দলের এমপিদের এক বৈঠকে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় টোরি দলের এমপিদের উদ্দেশে মে বলেন, দেশ এবং দলের স্বার্থে তিনি তার দায়িত্ব আগেই ছেড়ে দেবেন। তার আগে এমপিদেরকে মে’র ব্রেক্সিট চুক্তি পাসে সমর্থন দিতে হবে।
তিনি বলেন, এ ইস্যুতে টোরি এমপিরা তার নেতৃত্ব চান না। আর তাই তিনিও আর ক্ষমতায় থাকতে আগ্রহী না।
টেরেসা মে’র এ ঘোষণার পর তার খসড়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করা বেশ কয়েকজন টোরি এমপি সমর্থন জানানোর ইঙ্গিত দেন। ব্রেক্সিট ইস্যুতে পদত্যাগ করা দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন জানান, তিনি এবার প্রধানমন্ত্রীর চুক্তিতে ফিরে আসবেন।
কিন্তু ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্টরা জানান, এরপরও ওই চুক্তির বিপক্ষে তারা। ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের বাণিজ্য ও সংবিধানকে প্রভাবিত করতে দেয়া হবে না।
টেরেসা মে’র পদত্যাগের ঘোষণার পর সৃষ্ট নাটকীয় পরিস্থিতির মাঝেই দেশটির সংসদে ৮টি বিকল্প ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে ভোটাভুটি হয়। আর এই ভোটের সবকটি অনুমোদনে ব্যর্থ হয় দেশটির সংসদ।
আগামী শুক্রবার মে তার নতুন প্রস্তাব পার্লামেন্টে তুলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাস হলে ভোটের পর ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসবেন নতুন কেউ। এক্ষেত্রে ডেভিড লাইডিংটন ও মাইকেল গোভের নাম আলোচনায় রয়েছে।
২০১৬ সালে ব্রেক্সিট ইস্যুতে গণভোটে হেরে পদত্যাগ করেন দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তার পদত্যাগের পর টেরেসা মে দায়িত্ব নিয়ে ব্রেক্সিট পথরেখা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন। এ প্রক্রিয়ার মাঝেই পদত্যাগ করেন দেশটির ৩৯ জন মন্ত্রী।
এবার মেয়াদ পূর্তির তিন বছর আগে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার অবস্থা হয়েছে টেরেসা মে’র নিজেরই।








