নির্বাচন গ্রহণের পর টানা ১২ ঘন্টা গণনা শেষে মাত্র একটি আসন বাদে বাকি আসনগুলোর ভোট গণনা শেষ হয়েছে। এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে, মোট ৬৫০ টি আসনের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৮টি আসন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দল লেবার পার্টি পেয়েছে ২৬১ টি আসন। এসএনপি ৩৫ আসন। এলডি (লিব ডেম) পেয়েছে ১২টি আসন। অন্যান্য দল পেয়েছে ২৩ টি আসন। একটি আসনের ভোটগণনা এখনও শেষ হয়নি।
চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে কোন দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। কোনো দল সরকার গঠন করতে চাইলে এককভাবে ৩২৬ আসন পেতে হয়। তাহলে মেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার স্বীকৃতি। ফলে এখন পার্লামেন্টের অবস্থা হবে ‘ঝুলন্ত’।
৩২৬টি আসনে জয়ী হলে একটি দল নিরঙ্কুশভাবে সরকার গঠন করতে পারে এবং পার্লামেন্টে নতুন আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতা পায়। আর কোনো দল এককভাবে এই সংখ্যক আসন না পেলে, সেটা হয় ঝুলন্ত পার্লামেন্ট। যখন কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে পর্যাপ্ত এমপি পায় না, তখন পার্লামেন্ট গঠনে বিদ্যমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিকে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট বলে। ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনে এমন ঝুলন্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।
গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শুক্রবার সকাল স্থানীয় সময় ১১টা পর্যন্ত মোট ৬৫০টি আসনের মধ্যে ৬৪৯টির গণনা শেষ হয়েছে।

লেবার নেতা জেরমি করবিন ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মেকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে টেরেসা মে বলেছেন, দেশে এখন প্রয়োজন স্থিতিশীলতা এবং তার দল সেটা নিশ্চিত করবে। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও তারা সব থেকে বড় পার্টি হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিই ক্ষমতায় থাকবে এবং টেরেসা মে ডাউনিং স্ট্রিটেই থাকবেন। এ পর্যায়ে দলের নেতাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। তারা একটি জোট সরকার গঠনের চেষ্টা চালাবেন।
সে ক্ষেত্রে সমঝোতার ভিত্তিতে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা টেরেসা মে বা লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনকে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গঠন হতে পারে। অথবা দুই দলের মধ্যে কোনো একটি দলের নেতা অন্যান্য ছোট দলের সমর্থনের ভিত্তিতে একক সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারে। এখানে প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদনের বিষয়টি রয়েছে।
৬৫০টি আসনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর যে দল থেকে সব থেকে বেশি এমপি নির্বাচিত হন, সাধারণত সে দলকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়ে থাকে। সেই দলের নেতাই প্রায় সব সময়ই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু কোনো দলই স্পষ্টতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এবার তা নাও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে দল দ্বিতীয় স্থানে থাকে, সে দলও অন্য দলের সহযোগিতায় সরকার গঠন করতে পারে।








