কারাগারে মাদক, অস্ত্র এবং মোবাইল ফোন সরবরাহের অভিযোগে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের শত শত কারাকর্মী দোষী প্রমাণিত হয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক অবজারভার তথ্যের স্বাধীনতার (ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন-এফওআই) আবেদনের মাধ্যমে এসব তথ্য পেয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
অবজারভার জানতে পেরেছে, এসব অপরাধে গত ছয় বছরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারের ৩৪১ জন কর্মীকে বরখাস্ত, ছাঁটাই, সাজা দেয়াসহ পুলিশের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে।
গত বছর এসব কারাগারে কর্মীদের এ ধরণের অপরাধের ৭১টি ঘটনা ছিল, যা ২০১৫ সালের থেকে ৫০টি বেশি। কারাগার সেবা থেকে বলা হচ্ছে, এই পরিসংখ্যান কম সংখ্যক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিচ্ছবি।
এফওআই থেকে অবজারভারকে সরবরাহ করা ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, শুধু কারা কর্মকর্তারাই নয়, এসব বিষয় গোপন রাখার পেছনে স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশিক্ষকসহ অন্যান্য সহযোগীরাও জড়িত।
গত বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে ১৩ হাজার ১১১ বার মাদক পাওয়া গেছে। প্রতিদিন ৩৫টিরও বেশি এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ২০১৪ সালে এর পরিমাণ ছিল দিনে তিনটি।
প্রিজন অফিসার অ্যাসোসিয়েশন জানায়, কারাগারে মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার।
কারা সেবায় নিয়োজিত আইন মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, আমাদের কারাগারের বেশিরভাগ কর্মীই কঠোর পরিশ্রমী এবং সৎ। তবে অল্প কিছু কর্মী খারাপ কাজ ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। 
এসব অপরাধের পেছনে কর্মী সংকট ও অধিকাংশ অনভিজ্ঞ কর্মীর দুর্নীতির প্রবণাতাকে দায়ী করেছেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন রিচার্স সেন্টারের উপ-পরিচালক।
এর আগে চলতি বছর প্রিজন অফিসার অ্যাসোসিয়েশনও কর্মী সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তারা জানায়, ২০১০ সাল থেকে তারা প্রথমসারির সাত হাজারের বেশি কর্মী হারিয়েছেন। যদিও এই সতর্কতার পর আড়াই হাজার কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়।







