ব্রিটেনে সরকার গঠনে মুসলিম ভোটারের প্রভাব বেশ বেড়েছে। ব্রিটেনে বর্তমানে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা এত বেশি যে, ভোটের ২৫ শতাংশ সিটের সিদ্ধান্ত তাদের উপর নির্ভর করবে অনেকখানি।
২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পরই এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রাইট-উইং হেনরি জ্যাকসন সোসাইটি (এইচজেএস)।
এইচজেএসের আরো কিছু গবেষণা বলছে, যুক্তরাজ্যের সবগুলো সিটের প্রায় অর্ধেকটা কাদের অধীনে যাবে তা অনেকটা নির্ভর করবে মুসলিম ভোটারদের ওপর।
গবেষক ড. অ্যালান মেনডোজা বলেন, সংখ্যালঘু ধর্মীয় জনগণ যদিও বাধ্যতামূলকভাবে ভোট দেবে না। কিন্তু এমন কিছু ক্ষেত্র আছে যেখানে তাদের অবস্থানটা আসনবিন্যাসে বেশ ভালোই পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে প্রান্তিক আসনগুলোতে।
যুক্তরাজ্যের ৯৩টি প্রান্তিক আসনে মুসলিম ভোটার ৯৬.৯ শতাংশ, হিন্দু ৪৩ শতাংশ, শিখ ২৬.৯ শতাংশ এবং বৌদ্ধ ১৬.১ শতাংশ।’
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়া মুসলিমরা কাকে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবে তা নিয়ে উৎসাহ-উৎকন্ঠার কমতি নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সেরিই বুলিবান্ট অবশ্য বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি তারা একটি নেকড়েকে ভোট দিচ্ছে এবং এটা শেষ পর্যন্ত তাদেরই খেয়ে ফেলবে।’
ব্রিটেনের মুসলিমরা সাধারণ জনগণের মতো ভোট দিলেও, তারা চাকরি, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, বর্ণবাদ, পররাষ্ট্রনীতি এবং ইসলামোফোবিয়া নিয়ে বেশ যত্নবান। আবার সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ব্রিটেনে মুসলিমরা অন্যান্য সংখ্যালঘুদের চেয়ে চাকরির ক্ষেত্রে অনেক বেশি বৈষম্যের শিকার। সবমিলিয়ে তারাও মুখিয়ে উঠছে পরিবর্তনের আশায়।
যেসব দল নির্বাচনের বাইরে মুসলিমদের রীতিমতো উপেক্ষা করে এখন তাদের ভোট পেতে তারাই মুসলিমদের যত্ন করা শুরু করেছে। তবে কিছু মুসলিম বাকিদের এই ভোটাভোটির মধ্যে না জড়ানোরই আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের ধারণা, এতে তারা মোটেও লাভবান হবে না।
সবমিলিয়ে ২০১৫ কিন্তু ব্রিটিশ মুসলিমদের জন্য বিশেষ বছর। পরবর্তী নির্বাচনে ব্রিটেনে মুসলিমদের অবস্থানটা এবছরেই নির্ধারিত হয়ে যাবে।







