সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গি সংগঠন আইএস-এ যোগ দেয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগম তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার প্রথম ধাপেই হেরে গেছেন।
যুক্তরাজ্যের বিশেষ ‘ইমিগ্র্যান্ট অ্যাপিলস কমিশন’ (এসআইএসি) এর পক্ষ থেকে শুক্রবার জানানো হয়, শামীমা বেগম তার রাষ্ট্রহীনতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ তিনি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। যেহেতু শামীমা বেগম রাষ্ট্রহীন অবস্থায় নেই, তাই তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া যাবে।
সেই বিশেষ ‘ইমিগ্র্যান্ট অ্যাপিলস কমিশন’ মন্তব্য করেছে, শামীমা বেগম বাংলাদেশে নাগরিকত্ব চাইতে পারেন।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিক যদি পুরোপুরি রাষ্ট্রহীন হয়ে থাকলে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া অবৈধ।
ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা বিচারক ডোরন ব্লাম বলেন, যুক্তরাজ্যের স্টেট সেক্রেটারি নেয়া সিদ্ধান্তের কারণে তাকে শরণার্থী শিবিরে থাকতে হচ্ছে এমন নয়, বরং শামীমা বেগম স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেন।বর্তমানে উত্তর সিরিয়ার ক্যাম্প রোজ নামের একটি শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন তিনি।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ তার সঙ্গে প্রায় শতাধিক আইএস ফেরত নাগরিকদের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে আবেদন করে শামীমা বেগমের আইনজীবী তাকে দেশে ফিরতে দেয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন।
শামীমা বেগমের আইনজীবী ড্যানিয়েল ফারনার বলেন, ‘অতি সত্বর এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করবেন।’
তবে শামীমার নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়ার পরবর্তী পর্যায়ে, আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে – তাকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসতে দিতে জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে আইনগত কোনো ধরনের বাধা আছে কি না?
২০১৫ সালে ১৫ বছর বয়সে লন্ডনের স্কুল ছেড়ে ইসলামিক স্টেটে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় পাড়ি দেন শামীমা। তার কয়েকদিনের মধ্যেই তুরস্কের সীমান্ত পার করে রাকার আইএস সদর দপ্তরে পৌঁছান।
সেখানে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে আইএস – এ যোগ দেয়া এক ডাচ নাগরিককে বিয়ে করেন। এই দম্পতির তিনটি সন্তান ছিল, যাদের সবাই মারা গেছে।
শামীমা বেগমের বয়স এখন ২০ বছর। আইএসে যোগ দেয়ার চার বছর পর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবির থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।







