তাদের সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। পরীক্ষিত পারফর্মার দুজনেই। একজন রুবেল হোসেন; দলের সঙ্গে থাকছেন, কিন্তু একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন না। অন্যজন নাসির হোসেন, দলেই সুযোগ পাচ্ছেন না দীর্ঘদিন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণার আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নেমে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেদের কাজটা সেরে রাখলেন এই দুই তারকা।
বৃহস্পতিবার নাসিরের সেঞ্চুরিতে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে মোহামেডান। বিকেএসপির-৩ নম্বর মাঠে মোহামেডানের ২২০ রানের জবাবে গাজী ১৩ ওভার হাতে রেখেই জয়ে নোঙর ফেলে। চার নম্বরে নেমে ১০৬ বলে ১০৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটি খেলেন অধিনায়ক নাসির।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে ভারতীয় ক্রিকেটার পারভেজ রসূলকে (৫৩*) নিয়ে ১৪৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে অনায়াস জয় ঘরে তোলেন নাসির। ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি। অর্ধশতক ছুঁয়েছিলেন ৬৯ বলে। পরের পঞ্চাশ ছুঁতে লেগেছে ৩৫ বল। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটি তার চতুর্থ শতক।
নাসির জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বশেষ খেলেছেন ওয়ানডে। ২০১৬ এর অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, চট্টগ্রামে। তারপর আর টাইগারদের হয়ে নামা হয়নি। টিম কম্বিনেশনের সঙ্গে যান না এমন কথাও শোনা গেছে।
অথচ দুর্দান্ত ফর্মেই আছেন এই অলরাউন্ডার। ঘরোয়া লিগে গত বিসিএলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। ব্যাটে-বলে জ্বলছিলেনই। কদিন আগে ইমার্জিং কাপের দলের হয়েও সেঞ্চুরি করেছেন প্রয়োজনের মুহূর্তে। তার আগের ম্যাচে বল হাতে ম্যাচ জেতাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। এবার ঢাকা লিগে জ্বললেন।

কবে আবারো জাতীয় দলের স্কোয়াডে ফিরবেন সেটির অপেক্ষা থাকছে। তবে নিজের কাজটা ঠিকঠাকই করে যাচ্ছেন নাসির। কদিন পরেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা। তার আগে খুব বেশি ম্যাচ নেই। শুরুতেই সেঞ্চুরি করে তাই হয়তো ঠিকঠাক করে যাওয়া কাজটা আরেকটু এগিয়ে রাখলেন ৩০ বর্ষী মি. ফিনিশার।
অন্যদিকে রুবেলের অবস্থা এতটা সঙ্গিন নয়। ২৭ বর্ষী এই ডানহাতি পেসার গত নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি খেলেছেন। তবে ওয়ানডেতে নেমেছিলেন গত বছরের সেপ্টেম্বরে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কা সফরের ওয়ানডে দলের সঙ্গেও ছিলেন। তবে ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি একটিও। টি-টুয়েন্টি সিরিজের আগে দেশেই ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।
বৃহস্পতিবার প্রিমিয়ার লিগে রুবেলের আগুনে গোলায় পুড়েছে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। নিয়েছেন ৬ উইকেট। তাতে কলাবাগানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
বিকেএসপির-৪ নম্বর মাঠে কলাবাগান রুবেলের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। ৮.২ ওভার বল করে ২১ রানে ছয় শিকার ডানহাতি পেসারের। আছে দুটি মেডেনও। রুবেল এই নিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৫ উইকেট পেলেন চারবার, যার তিনবারই ৬ উইকেট করে!
প্রাইম ব্যাংক এদিন একাদশই সাজিয়েছিল মাত্র একজন পেসার নিয়ে। রুবেলের সঙ্গে ঠেকার কাজ চালাতে ছিলেন সৌম্য ও আরিফুল। তবে রুবেল কাজের কাজটা করে ফেলায় দলকে ভুগতে হয়নি।
ম্যাচে কলাবাগান অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে বোল্ড করে শুরু করেছিলেন রুবেল। পরের ওভারে জসিমউদ্দিনকেও বোল্ড করেন। আবারো যখন বল হাতে ফেরেন, পরের গল্পটুকু শুধু রুবেলের। তার তোপে পড়ে প্রতিপক্ষের মিডল ও লোয়ার অর্ডার। দারুণ কিছু করেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণার আগে রুবেলও দলে ঢোকার দাবিটা জানিয়ে রাখলেন আবারো।








