সরকারিভাবে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা নিম্নমানের গম নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর আটা ও ময়দা তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তাদের আশস্ত করার চেষ্টা করছে যে তারা ওই দেশের গম ব্যবহার করে না।
‘আটা, ময়দা, সুজি তৈরিতে আমরাই একমাত্র ব্রাজিলিয়ান গম ব্যবহার করি না’ শিরোনামে সোমবার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারী শাখা প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড।
তবে এসিআই’র পিওর এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্রেস ব্র্যান্ড সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, তাদের আটা-ময়দায়ও ব্রাজিলের গম ব্যবহার করা হয় না।
ভোক্তা সচেতনতার জন্য বসুন্ধরার বিজ্ঞাপনকে এ প্রতিষ্ঠান দুটি ইতিবাচকভাবে দেখলেও ‘একমাত্র’ তারাই (বসুন্ধরা) ব্রাজিলিয়ান গম ব্যবহার করছে না এমন বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে সমালোচনা করেছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত বসুন্ধরার বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে ‘দেশের নামিদামি আটা, ময়দা, সুজি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদউত্তীর্ণ ও নিম্নমানের ব্রাজিলিয়ান গম ব্যবহার করছে’। এমন দাবির স্বপক্ষে বসুন্ধরার ব্র্যান্ড কর্মকর্তা আশফাক হামিদ জানান, তার প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতেই এ কথা বলেছে।
আমদানি করা নিম্নমানের ওই গমের চালান বাজারে ছড়িয়ে পড়ার খবর প্রকাশিত হওয়ায় নিজেদের পণ্য সম্পর্কে ক্রেতার সংশয় দূর করতেই এই বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে বলে জানান বসুন্ধরা ফুডের ব্র্যান্ড ম্যানেজার।
তিনি বলেন, ‘মিডিয়া বলছে ওই গম ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক নামিদামি ব্র্যান্ড তা ব্যবহার করছে। এ অবস্থায় নিজেদের উৎপাদিত আটা, ময়দা, সুজি-তে নিম্নমানের গম ব্যবহার করা হয়নি ক্রেতাদের সেটা জানাতেই এই বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে বসুন্ধরা ফুড।
প্রতিষ্ঠানের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত খবরের পর তার প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। তিনি বলেন,‘আমরা ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া,কানাডা থেকে গম আমদানি করি, আমাদের পণ্যে ব্রাজিলিয়ান গম ব্যবহৃত হয়নি’।
এখনো বিজ্ঞাপন না দিলেও নিজেদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বসুন্ধরা ফুড এন্ড বেভারেজের মতো একই দাবি করেছে এসিআই-পিওর এবং মেঘনা গ্রুপের-ফ্রেস ব্র্যান্ড।
এসিআই-পিওর ফ্লাওয়ারের ডিরেক্টর সৈয়দ আলমগীর জানান, তারা দেশীয় ভালো মানের গম ছাড়াও ভারত, কানাডা, রাশিয়া থেকে গম আমদানি করেন। ব্রাজিল থেকে তারা গম আমদানি করেন না। তাই বসুন্ধরা ফুড-ই ‘একমাত্র’ ব্রাজিলিয়ান গম ব্যবহার করে না, এটা বলাটা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরাও (এসিআই-পিওর) ব্রাজিলের গম ব্যবহার করি না’।
বসুন্ধরার এমন বিজ্ঞাপনের পর কারও প্রতি ইঙ্গিত না করে পিওর ফ্লাওয়ারের পণ্যে ব্রাজিলের গম ব্যবহার করা হয়নি জানিয়ে শিগগিরই বিজ্ঞাপন দেওয়ার কথা জানান সৈয়দ আলমগীর।
প্রায় একই কথা বলেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্রেস আটা, ময়দা ও সুজির ফ্যাক্টরি ও কোয়ালিটি বিভাগের এজিএম নজমুল হাবীব।
তিনি বলেন, রাশিয়া, উরুগুয়ে, ইউক্রেন, কানাডা থেকেই গম আসে। ব্রাজিল থেকে গম আনা হয়নি। আর যে গমের চালান এসেছে তা সরকার এনেছে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ খাতে ব্যবহারের জন্য। এক্ষেত্রে ভোক্তার জন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠান নিজের পণ্য নিয়ে বিজ্ঞাপন দিতেই পারে।
‘তবে অন্যদের ব্যাপারে না জেনে ‘একমাত্র’ তারাই (বসুন্ধরা) ব্রাজিলের গম ব্যবহার করেন না’এমন দাবি সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি
নাম প্রকাশ না করে আরেকটি আটা-ময়দা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্রাজিলের গম মানেই যে খারাপ তা নয়। কিছু খারাপ থাকতে পারে। তবে আমাদের দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানই ব্রাজিল থেকে গম আমদানী করে থাকেন। সেই গমগুলো কোথায় যায়?
তবে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, সরকারের দেওয়া কাবিখা, টিআরসহ অন্য প্রকল্পের মাধ্যমে যে গম দেওয়া হয়; তার একটা বড় অংশই কালোবাজারের মাধ্যমে চলে যায় আটা-ময়দা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে।






