ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রবল ঝাপটায় লণ্ডভণ্ড হওয়া দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এই প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সীমানা অতিক্রম করায় রোয়ানু’র শঙ্কা থেকে মুক্ত হয়েছে উপকূলবাসী।
তবে, নিম্নচাপের কারণে ঝড়ো বাতাস বইছে উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
‘রোয়ানু’র আঘাতে চট্টগ্রামে ১২, ভোলায় ৪, ফেনীতে ১, কক্সবাজারে ৪, লক্ষ্মীপুরে ১, পটুয়াখালীতে ১ ও নোয়াখালীতে ৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। কয়েকশ ব্যক্তির আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙ্গে উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভোলায় ইলিশার মেঘনায় বালুবাহী দু’টি কার্গো জাহাজ ডুবে নিখোঁজ রয়েছেন ৪জন।
তীব্র ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েকশ ঘরবাড়ি। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রবল জোয়ারে পটুয়াখালীতে বেড়ি বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকা।ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল এবং দ্বীপগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়।
ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবেলায় আগে থেকেই নেওয়া হয় জোড় প্রস্তুতি। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ৩৮৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়, মোতায়েন করা হয় ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী। আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয় উপকূলীয় এলাকার ৫ লাখ বাসিন্দাকে।
রোয়ানুর প্রভাবে উপকূলের জেলাগুলোতে শুক্রবার রাত থেকেই শুরু হয় ভারী বৃষ্টিপাত। বরিশালে ১৫৬, খেজুপাড়ায় ১৮০ এবং ভোলায় ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টি দেখা দেয় রাজধানী ঢাকাতেও। রোয়ানুর প্রভাবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিসসূত্রে জানা গেছে।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে মৃতের এই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে গত তিন বছরে আঘাত হানা প্রায় একই শক্তির দুই ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ ও ‘মহাসেন’ এ মৃতের সংখ্যাকেও। গত বছরের জুলাইয়ে প্রায় একই শক্তির ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ এর আঘাতে কক্সবাজার, পটুয়াখালী, ভোলা ও নোয়াখালীতে চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। আর ২০১৩ সালের মে মাসে আঘাত হানা একই মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ এ প্রাণ যায় ১২ জনের।







