আবারও দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এর ৪ দিন আগে ১৬ আগস্ট সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার নিরাপত্তা বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছিল। ওই সময় সতর্কতা দেয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আসন্ন ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির দিনসহ পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে (২১-২৫ আগস্ট) ব্যাংকের সব ব্যবসা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সাইবার নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে।’
এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘ছুটির দিনসহ ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর রাতেও আকস্মিকভাবে শাখা পরিদর্শনের ব্যবস্থা, ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির দিন ছাড়াও পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ব্যাংকের আইটি সিস্টেম, বিভিন্ন স্থাপনা এবং ভল্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পালাক্রমে তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেয়া নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘ব্যাংকের সব ব্যবসা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিকটবর্তী থানা, র্যাব অফিস ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।’
এতে উল্লেখ করা হয়, ‘সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বসহ বিবেচনা করতে হবে।’
এর আগে ১৬ আগস্ট জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এক্ষেত্রে সাইবার অপরাধীরা পেমেন্ট সিস্টেমস হ্যাক করে দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নেয়। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশও এ ধরনের সাইবার সিকিউরিটি এবং হ্যাকিং সংক্রান্ত নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকের তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবস্থার নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।








