বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে জাস্টিন গ্যাটলিনের কাছে রাজ্য হারিয়ে তৃতীয় হয়ে দৌড় শেষ করেছেন উসাইন বোল্ট।
লন্ডন স্টেডিয়ামে ৯.৯৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে তৃতীয় হয়েছেন এই আসরের পরই চিরতরে ট্র্যাক ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে রাখা জ্যামাইকান গতি কিংবদন্তি।
শনিবার রাতে প্রথমে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ফাইনালে উঠেছেন দ্বিতীয় হয়ে। তখন মনে হচ্ছিল কয়েকঘণ্টা পরের ফাইনালের জন্য বুঝি সেরাটা তুলে রেখেছেন বোল্ট। ফাইনালে তাই বিদ্যুৎচমকের আশায় ছিলেন সবাই। তাতে চমকটা থাকল, থাকল না কেবল চিরচেনা গতির পসরা। বোল্ট পড়ে থাকলেন তিনে।
এদিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাটলিন সবার আগে দৌড় শেষ করতে সময় নিয়েছেন ৯.৯২ সেকেন্ড। ডোপ নেওয়ার দায়ে দুই দফা নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা সেই গ্যাটলিন। আর যুক্তরাষ্ট্রেরই ২১ বর্ষী ক্রিস্টিয়ান কোলম্যান রূপা জেতার পথে ৯.৯৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেছেন।
অথচ মঞ্চটা প্রস্তুতই ছিল। বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের ১৬তম আসরের মধ্যমণি ছিলেন বোল্ট। যিনি জেতার নিশ্চয়তা দিয়ে জানিয়ে রেখেছিলেন তাকে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম কি হবে- ‘অপরাজেয়, অপ্রতিরোধ্য বোল্ট’। ১০০ মিটারে শেষবারের দৌড়ের পর তিনিই শিরোনামে থাকলেন, তবে ঠিক করে দেয়া শিরোনামটা লেখার মত পরিস্থিতি এনে দিতে পারলেন না সর্বকালের সেরা এই গতিমায়েস্ত্র।
পেশাদার ক্যারিয়ারে গত নয় বছরে প্রথমবার কোনও দৌড়ে তৃতীয় হয়ে শেষ করলেন বোল্ট। এরপরও গ্যালারি থেকে তার নামে গর্জন ঢেউ উঠল। অলিম্পিকের ৮ সোনা কিংবা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১১ সোনার হিসেব তখন তুচ্ছ!
বিজয়ী গ্যাটলিনও হাঁটু গেড়ে বিদায়ী সম্মাননা জানালেন বোল্টকে। আর আক্ষেপ না ঝরিয়ে বোল্ট বলে গেলেন, ‘আমি দুঃখিত! জয় দিয়ে শেষ করতে পারলাম না। সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমাকে প্রেরণা জুগিয়েছেন। অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা ছিল এই পথ চলা।’
এই প্রতিযোগিতায় ২০১১ সালে ১০০ মিটারেই ডিসকোয়ালিফাই হয়েছিলেন বোল্ট। সেবার চোখে পানি ঝরেছিল। পরে ওটাকেই করেছিলেন শক্তি। ২০০৯ থেকে টানা তিন আসরের প্রতিটিতে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪০০ মিটার রিলেতে সেরা হয়েছেন। আগামী ১২ অগাস্ট ৪০০ মিটার রিলেতে দৌড়ে ক্যারিয়ারে যতি টানবেন বোল্ট।
অন্যদিকে ৩৫ বছরেও সেরা হওয়া গ্যাটলিন লিখলেন ফিরে আসার দারুণ এক গল্প। ২০০৫ সালে হেলসিঙ্কির আসরের পর বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে ১০০ মিটারে সেরা হলেন আবারো। এই প্রতিযোগিতায় গ্যাটলিনের এটি তৃতীয় সোনার পদক। ২০০৫ আসরে ১০০ এবং ২০০ মিটারে সোনা অর্জন ছিল তার। ২০০৪ অ্যাথেন্স অলিম্পিকেও ১০০ মিটারের সেরা তিনি। এমন সব সাফল্যের পরও অনেকবার দুয়ো শুনতে হয়েছে গ্যাটলিনকে। শনিবার রাতে বোল্টকে হারানোর পরও যেমন শুনলেন!








