প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স যখন বাড়ছে, তখন এই আশার আলোয় অন্ধকার হিসেবে দেখা দিয়েছে মালয়েশিয়ার নতুন সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্ধারিত ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে চলমান প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক নিয়োগ স্থগিত করেছে দেশটির সরকার।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারান বলেছেন: ‘বাংলাদেশ থেকে প্রবাসী কর্মী নেয়ার বর্তমান যে প্রক্রিয়া রয়েছে সেটি স্থগিত করা হয়েছে।’
তিনি জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া চলছে– এমন অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ থাকবে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সিন্ডিকেট এ প্রক্রিয়াকে মানব পাচারে ব্যবহার করছে এবং অভিবাসীদের সাথে প্রতারণা করছে।
তবে আশার খবর হচ্ছে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো বন্ধ হচ্ছে না। তদন্ত শেষে সিদ্ধান্তে আসার আগ পর্যন্ত লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জনশক্তি রপ্তানি চালু রাখা যদিও সুখবর বটে, তারপরেও নতুন সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধাক্কা বলেই আমরা মনে করি। যাদের কারণে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট হয়েছে তাদের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শুধু মালয়েশিয়া নয়, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্য অনেক দেশেও জনশক্তি রপ্তানি খাতে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। নারী শ্রমিকদের ওপর চালানো অমানুষিক নির্যাতনের খবর গণমাধ্যমে আসলেও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কাউকে আমরা উদগ্রীব হতে দেখিনি। এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। এ কারণে বিদেশে নারী শ্রমিকদের ওপর দিন দিন বাড়ছেই।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ থাকলেও এখনও তা উন্মুক্ত হয়নি। নতুন বাজার সৃষ্টির খবরও তেমন আশানুরূপ নয়। এছাড়াও বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।
জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তরের এই ক্ষেত্রকে ক্রমান্বয়ে নষ্ট না করে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে আমাদেরকে নতুন বাজার খোঁজার পাশাপাশি পুরনো বাজারগুলোকে ধরে রাখতে হবে। প্রবাসীদের নানা দুঃখকষ্ট আমলে নিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।







