কোহলি-পূজারারা নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারেননি। বল হাতে অশ্বিন-জাদেজাদের সামনে ব্যাটিংয়ের সেই ঘাটতিটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল। অস্ট্রেলিয়ার রানের চাকায় লাগাম দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণপণ লড়ে তাতে অনেকটা সফল ভারতের বোলাররা। তবে বিনাযুদ্ধে ময়দান ছেড়ে যাননি সফরকারী ব্যাটসম্যানরাও। মাটি কামড়ে পড়ে থেকে লিডটাকে দ্বিতীয় দিনে ৪৮ রানে টেনে নিয়েছেন রেনশো-মার্শরা।
এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বিনা উইকেটে ৪০ রান নিয়ে রোববার দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ২৩৭ রানে। রেনশোর ৬০ ও মার্শের ৬৬ রানে এই সংগ্রহ পায় সফরকারীরা।
সকালে ডেভিড ওয়ার্নার ২৩ ও ম্যাট রেনশো ১৫ রানে ক্রিজে আসেন। দুজনে ৫২ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। ওয়ার্নারকে (৩৩) বোল্ড করে ব্রেক-থ্রু এনে দেন রবিচন্দ্র অশ্বিন। দুজনের মুখোমুখি ১২ টেস্টে অশ্বিনের বলে ৮ বার আউট হওয়ার তিক্ত স্বাদ মিলেছে ওয়ার্নারের। যেটা অশ্বিনের ক্যারিয়ারে প্রতিপক্ষের কোনো ব্যাটসম্যানকে সর্বাধিকবার আউট করার অভিজ্ঞতা। উল্টোটা ওয়ার্নারের। অজি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আর কোন বোলারের হাতেই এতবার আউট হননি।
উদ্বোধনী জুটি ভেঙে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি ভারত। সফরকারীরা ছোট ছোট জুটি গড়ে এগোতে থাকে। অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের (৮) সঙ্গে ৩০ রানের জুটি গড়ার পর অজিদের মাটি কামড়ে পড়ে থাকাটা আরো দৃশ্যমান হয়। এসময় রেনশোর সঙ্গে জুটি বাঁধেন শন মার্শ।
রেনশো ও মার্শ মিলে মূল্যবান ৫২টি রান যোগ করেছেন। সেটির চেয়েও বড় ২৫.১ ওভার অবিচ্ছিন্ন ছিলেন। পরে জাদেজার বলে স্টাম্পিং হয়ে রেনশো ফিরে গেলে ভাঙে এই জুটি। ৬০ রানের ইনিংসটি ৫ চার ও ১ ছয়ে ১৯৬ বলে খেলেছেন ওয়ার্নারের উদ্বোধনী সঙ্গী।
মার্শ তখনো ছিলেন। মাঝে পিটার হ্যান্ডসকম্ব (১৬) ফিরে যান। ভাই মিচেল মার্শকে (০) নিয়েও এগোতে পারেননি। নিজে ফিরেছেন দিনের খেলা শেষের আগে আগে। তবে লিড এনে দেওয়ার পথে ম্যাথু ওয়েডকে নিয়ে ৫৭ রানের জুটি গড়ে কাজের কাজটা করে গেছেন। ১৯৭ রানে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে ফিরেছেন মার্শ।
অজিদের জন্য মার্শের আউটটাই খানিকটা ধাক্কা। তৃতীয় দিনে ভারতের বিপদ বাড়ানোর দায়িত্বটা এখন বর্তেছে দুই অপরাজিত ওয়েড (২৫*) ও মিচেল স্টার্কের (১৬*) ওপর।
ভারতের হয়ে ৩ উইকেট নিয়ে দিনের সেরা রবীন্দ্র জাদেজা। একটি করে উইকেট গেছে ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব ও রবীন্দ্র জাদেজার ঝুলিতে।
প্রথম ইনিংসে ১৮৯ রানে গুটিয়ে যাওয়া ভারত কত অল্পতে অজিদের বেঁধে ফেলতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়। কেননা অসমান বাউন্স আর মাঝে মধ্যেই নিচু হয়ে আসা বলে খুব বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনা দ্বিতীয় ইনিংসেও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে কোহলিদের জন্য। প্রতিপক্ষ হিসেবে তো লায়ন-ও’কিফরা থাকছেনই। প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানে হেরে সিরিজ শুরু করা ভারতের সামনে প্রতিপক্ষ হয়ে থাকবে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিও। এখন পর্যন্ত তিনটি ইনিংস খেলে ফেলা এই সিরিজে তারা যে দুইশর কোটাই ছুঁতে পারেনি একবারও।







