নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পূর্বশক্রতার জের ধরে বৃদ্ধ শেখ নাছির উদ্দিন মাইজভান্ডারীকে (৬৮) পায়ুপথে টর্চলাইট ঢুকিয়ে নির্যাতনের ঘটনার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আবুল হোসেন সানাজ (৪৫) উপজেলার চরকাজী মোখলেছ গ্রামের মৃত আাজাহার আহমেদের ছেলে এবং চরওয়াপদা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।
রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার থানারহাট বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম জানান, রোববার রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধের ছেলে ইউপি সদস্য মো. রিপন বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
সোমবার সকালে সানাজকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
পূর্বশক্রতার জের ধরে গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান ভূঞার ইন্ধনে ৯নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শানাজের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা উপজেলার থানারহাট সংলগ্ন আমানতগঞ্জ এলাকায় এমন পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় থানারহাট বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তার শেখ নাছির উদ্দিন মাইজভান্ডারী। যাত্রা পথে থানারহাট টু সোনাপুর সড়কের মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন মাইকওয়ালার বাড়ির সামনের সড়কে ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সানাজের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধ শেখ নাছির উদ্দিনের পথ রোধ করেন। সেসময় দুর্বৃত্তরা তার মুখ বেঁধে পাশের জঙ্গলে নিয়ে তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে তার বাবার পায়ুপথে একটি টর্চলাইট ঢুকিয়ে দেয়। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে ফেলে চলে যায়। পরে তার জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে এবং রোববার ভোরে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সৈয়দ মহি উদ্দিন আবদুল আজিম জানান, গতকাল রোববার সকালে প্রায় দেড় ঘণ্টা অস্ত্রোপচার চালিয়ে টর্চলাইটটি বের করা হয়। বর্তমানে রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।







