রাজধানীর আশুলিয়া, মিরপুর, উত্তরা বেঁড়িবাধ এলাকাগুলোতে ভোরবেলায় সাদা প্রাইভেটকার দিয়ে ছিনতাই করত এএসপি মিজানুরের হত্যাকারীরা।মিজান হত্যা মামলার আসামী মোঃ শাহআলম ওরফে আলম ওরফে বুড্ডা ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতে এসব কথা জানান বলে দাবি করেছে পুলিশ।
ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কান্তি চৌধুরী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: এএসপি মিজানুর হত্যা মামলার আসামী শাহআলমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে ডিবি পুলিশের একটি দল দৌড় ব্রীজ মোড়ে অবস্থান করে । তারা রূপনগর থানার বেড়িবাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ড হতে একটি সাদা প্রাইভেটকারকে অনুসরণ করে এবং থামার জন্য সিগনাল দেয়।
প্রাইভেটকার থামিয়ে চারজন অজ্ঞাতনামা লোক নেমে অতর্কিতে ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথারী গুলি বর্ষণ শুরু করে। ডিবি পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। গোলাগুলিতে দুইজন ছিনতাইকারী ও তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। ওই সময় দুইজন ছিনতাইকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার দুই ছিনতাইকারীকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হল-সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাদত হোসেন সুমা, পুলিশ পরিদর্শক আবু আজিফ ও এসআই মফিজুল ইসলাম। আহত পুলিশ সদস্যরা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
সুমন কান্তি জানান ঘটনাস্থল থেকে দুইটি ৭.৬৫ পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিন, লোহার রড, চাকু, গামছা এবং সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার যার রেজিঃ নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-১২- ৪৫৪১ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
গত ২২ জুলাই শনিবার রাতে ডিএমপির গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগের একটি টিম গাজীপুর জেলার টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান হত্যা মামলায় জড়িত মো. শাহ আলম ওরফে আলম ওরফে বুড্ডা (৬২) নামে একজনকে গ্রেফতার করে।
২১ জুন মিরপুর রূপনগর থানার বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় মিজানুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ঘটনার পর তার ভাই মো. মাসুম তালুকদার বাদী হয়ে ২১ জুন রাতেই রূপনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামালা দায়ের করেন।
পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।








