বিয়ের আলোচনা চলতে চলতে দিন, মাস, বছর পেরিয়ে যায়। আর হবেই না কেন, এটা সারা জীবনের প্রশ্ন। একটু ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত না নিলে তার জন্য ভোগান্তি পোহাতে হয়।
কখনো দেখা যায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বড় ধরণের কোন ফাঁক রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে যদি সুযোগ থাকে তবে বিয়ের আগেই জেনে নিন কিছু প্রশ্নের জবাব।
১. প্রথমে যে প্রশ্নটি করা দরকার তা হলো, আপনি কি আমাকে সত্যিই বিয়ে করতে রাজি? কারণ, অনেক সময় পারিবারিক চাপে বিয়েতে রাজি হতে হয়। আর এই ভোগান্তি নিজের পাশাপাশি পার্টনারকে অনেক বেশি ভোগ করতে হয়।
২. বিয়েটা যদি একান্তই পারিবারিক ভাবে হয় তবুও পার্টনারের সঙ্গে নিজে কথা বলে নিন। একটু নিজেদের মতো করে কথা বলা মানে পরিবারের অবাধ্য হওয়া নয়।
৩. বাবা-মা কিংবা পরিবার যদি বর/কনে ঠিক করেন, তারা দেখেন পরিবার, কালচার, বংশমর্যাদা নিজেদের সঙ্গে মিলে কিনা। কিন্তু একজন জীবনসঙ্গীকে হয়তো আপনি এসবের বাইরে থেকেও অন্যভাবে দেখার চেষ্টা করবেন। যেমন সে কতটা বন্ধুসুলভ, সামাজিক এমন আরও অনেক কিছু। তাই এই সুযোগ বিয়ের আগে নিজেকেই করে নিতে হবে।
৪. আর্থিক বিষয়ে বিয়ের আগে পরিষ্কার হয়ে নিন। কারণ, জীবনে চলতে গেলে টাকা একটি বড় বিষয়। সংসারে টাকা কীভাবে আসবে, কোন কোন খাতে ব্যয় হবে এগুলো জেনে নিন। সংসারের খরচে আপনার ভূমিকা কতখানি থাকবে তা স্পষ্ট হয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অংশগ্রহণ থাকবে কিনা তাও জেনে নিন।
৫. পরিবারের ধরন কেমন হবে জেনে নিন। অর্থাৎ আপনাকে কি যৌথ পরিবারের সাথে থাকতে হবে নাকি আপনার একটা আলাদা সংসার থাকবে, তা আগেই কথা বলে নিন।
৬. মেয়েদের ক্ষেত্রে চাকরি করার সুযোগ থাকবে কিনা তা জেনে নিতে হবে। আর চাকরি করলে কে কতটা সময় দেবেন, সেই ব্যাপারে কথা বলে নিন। ছুটির দিন কে, কীভাবে কাটাতে পছন্দ করবেন তা কথায় কথায় জেনে নিন।
৭. কোনো অভ্যাস যা আপনার ভালো লাগে না, তা আছে কিনা জেনে নিন। আর থাকলেও সেটা বিয়ের পর কতটুকু পরিবর্তন করতে রাজি হবেন তাও জেনে নিন।
৮. একে অপরের খাদ্যাভ্যাস, ড্রেস-আপ, পছন্দ-অপছন্দ কথায় কথায় জেনে নিতে পারেন। জানুন একজন অপরজনকে কতখানি মেনে নিতে প্রস্তুত আপনারা।
এগুলোসহ আপনার মনের আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর বিয়ের আগেই জেনে নেওয়া ভালো। তবে এই উত্তরগুলো ঘটা করে নয় বরং কথায় কথায় যথাসম্ভব মার্জিত ভাব রেখে বুদ্ধিমত্তার সাথে জেনে নিন। ফেমিনা।








