৬৮ রানে নেই ৬ উইকেট, ওই অবস্থায় দুইশ’র বেশি রান তাড়া ‘অসম্ভব’ই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ক্রিকেট যে গৌরবসময় অনিশ্চয়তার খেলা! মিরপুরের ২২ গজে শুভাগত হোম চৌধুরী দেখালেন ব্যাটিং কারিশমা। দারুণ সঙ্গ দিলেন জাকের আলি অনিক। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১৫৩ রানের জুটি এনে দিল ৪ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালে বিসিবি দক্ষিণাঞ্চলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল।
পঞ্চম দিনের চা বিরতির আগেই ২১৮ রানে লক্ষ্য তাড়া করে ফেলে মধ্যাঞ্চল। দলটির অধিনায়ক শুভাগত ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করেন। ১২১ বলে ১১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। মারেন ১৩টি চার ও দুটি ছয়। জাকের আলি ১২৪ বলে পাঁচ বাউন্ডারিতে করেন ৪১ রান।
দক্ষিণাঞ্চল: ৩৮৭ ও ২৬৮
মধ্যাঞ্চল: ৪৩৮ ও ২২১/৬
আগের দিনের ৩ উইকেটে ২৬ রান নিয়ে কুয়াশাময় সকালে ব্যাটিং করত নামে মধ্যাঞ্চল। ৮ রানে অপরাজিত থেকে চতুর্থ দিন শেষ করা সৌম্য সরকার শেষ দিন কোনো রান যোগ করতে পারেননি। মেহেদী হাসান রানার বলে এলবিডব্লিউ হন। এ বাঁহাতি পেসার কিছুক্ষণ পরই তাইবুর রহমানকে (৩) আউট করেন।
সৌম্যর সঙ্গে ৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা সালমান হোসেন ৩৭ রান করে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে আউট হন। ৬৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে পড়ে মধ্যাঞ্চল। সেখান থেকে শুভাগতর বীরত্বে কঠিন সমীকরণ সহজে মেলায় দলটি। ওয়ানডে স্টাইলে খেলে এক সেশন আগেই দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে।
চতুর্থ দিনেই শিরোপার সুবাস পাচ্ছিল ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল। তাদেরকে হতাশায় ডুবিয়ে ব্যাট হাতে রিশাদ হোসেনের প্রতিরোধ উল্টো চ্যালেঞ্জে ফেলে দলটিকে। ৯ নম্বরে নেমে তরুণ লেগ স্পিনারের ৯৯ রানের লড়াকু ইনিংসে লড়াকু সংগ্রহ গড়ে দক্ষিণাঞ্চল।
১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি রিশাদ। ১৩৬ বলে ১০ চার ও চার ছক্কায় খেলেন ৯৯ রানের ইনিংস। তাইবুর রহমানের বলে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন। প্রথম ইনিংসে ৫১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিং শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল। আবু হায়দার রনির পেস তোপে ১১৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। লিড তখন মাত্র ৬৮ রানের। হাতে ছিল মোটে ৩ উইকেট।
বাকি টেলএন্ডারদের নিয়ে রিশাদ ২৬৮’তে টেনে নেন দলীয় সংগ্রহ। নাসুম আহমেদকে নিয়ে অষ্টম উইকেট জুটিতে ৪৪ রান যোগ করেন। মেহেদী হাসান রানার সঙ্গে পরের জুটিতে আসে ৫১ রান। কামরুল ইসলাম রাব্বিকে নিয়ে শেষ জুটিতে রিশাদ যোগ করেন আরও ৪৪ রান।
২৮ বল মোকাবেলা করে শূন্য রানে অপরাজিত থেকে কামরুল ইসলাম রাব্বি তিন অঙ্ক ছোঁয়ার সুযোগ করে দেন রিশাদকে। সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। তাইবুরের স্পিনে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক জাকের আলি অনিকের গ্লাভসে।
মধ্যাঞ্চলের বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার ৭৮ রানে নেন ৫ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন হাসান মুরাদ, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, সৌম্য সরকার ও তাইবুর। প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ায় ২১৮ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় মধ্যাঞ্চলের সামনে।
জাকির হাসানের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে (১০৭) প্রথম ইনিংসে চারশর কাছাকাছি (৩৮৭) সংগ্রহ দাঁড় করায় দক্ষিণাঞ্চল। বাঁহাতি স্পিনার মুরাদ নেন ৫ উইকেট। মিঠুনের ডাবল সেঞ্চুরি (২০৬) ও শুভাগত হোমের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে মধ্যাঞ্চল করে ৪৩৮ রান। কামরুল ইসলাম রাব্বি ও ফরহাদ রেজা নেন ৪টি করে উইকেট।








