‘তামাকজাত পণ্যের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ কর’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৩১ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। তামাকের অবৈধ্য বাণিজ্য বিশ্বব্যাপী সমস্যা। বিশ্ব বাজারে প্রতি ১০টি সিগারেট শলাকার ১টি বিক্রি হয় অবৈধভাবে। অর্থাৎ বিশ্বব্যাপি সিগারেট বাণিজ্যের ১১.৬ শতাংশই অবৈধ এবং এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে সকল দেশসমূহকে প্রতিবছর ৪০.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার রাজস্ব ক্ষতি গুনতে হয়। বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে এই রাজস্ব ক্ষতির মাত্রা আরো অনেক বেশি।
আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, তামাকজাত দ্রব্যের চোরাচালানের সাথে তামাক কোম্পানিগুলো জড়িত। যুব ও স্বল্প আয়ের মানুষদের নিকট কর ফাঁকি দিয়ে, অপেক্ষাকৃত সস্তায় সিগারেট পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে এ চোরাচালান করা হয়।
২০০৯ সালে দ্য ইউনিয়নের এক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বে তামাকপণ্যের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করা গেলে সামগ্রিকভাবে সিগারেটের দাম ৩.৯ শতাংশ বাড়বে এবং বিশ্বব্যাপি এর ব্যবহার ২ শতাংশ কমবে। ফলে বছরে ১ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো যাবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন এলায়েন্স (এফসিএ) ও হেলথ ব্রিজ পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী, ২০১০ সালে বাংলাদেশে তামাকের অবৈধ বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ৯শ ৮৪ মিলিয়ন টাকা এবং এর ফলে প্রতি বছর সরকারকে ২ হাজার ৪৪৫ মিলিয়ন টাকা রাজস্ব হারাতে হয়েছে।
২০১৪-১৫ সালের জাতীয় বাজেটে মৃত্যুঘটিত তামাকজাত দ্রব্যের উপর ১ শতাংশ হারে স্বাস্থ্যকর (সারচার্জ) আরোপ করেছে সরকার।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান আজ তামাক মুক্ত দিবস পালন করবে। এ উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে তামাকবিরধী জোটরা বিভিন্ন আলোচনার আয়োজন করবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপি তামাকের ব্যাবহার কমানোকে উৎসাহিত করার জন্য ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপি তামাক মুক্ত দিবস পালন করে আসছে।







