ইভিএমকে আধুনিক বিশ্বের একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী অনুষঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার সকালে ঢাকায় সপ্তাহজুড়ে গণসংযোগ কর্মসূচির পঞ্চম দিনের প্রচারণায় গাবতলীতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম (ইভিএম) ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন: ইভিএম সীমিত পরিসরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার হোক এটা আওয়ামী লীগ চায়। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা সে দাবি জানিয়েছি।
আওয়ামী লীগ কেন ইভিএম চায় সে ব্যাখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন: নির্বাচনে যাতে জালিয়াতি না হয়, কারচুপি না হয়, বাক্স যাতে ভর্তি করতে কেউ না পারে, জাল ভোট যাতে কেউ না দিতে পারে, সেজন্যই ইভিএম। আধুনিক বিশ্বের একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার অনুষঙ্গ ইভিএম।
এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন বিলটি দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনে পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন: নির্বাচন কমিশন ইসি যদি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পাঠাতে পারে তাহলে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ সংশোধন বিলটি সংসদের আগামী অধিবেশনে পাশ হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন: ২১ তারিখ মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংসদের শেষ অধিবেশন ডেকেছেন। শেষ অধিবেশনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসবে। তবে অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত। শেষ অধিবেশন এক সপ্তাহের মত হতে পারে। এখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকবে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন যদি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ আইন প্রস্তুত করে সংসদে পাঠায় তাহলে হবে। এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটি ভোটিং হবে এরপর ক্যাবিনেটে পাস হবে। সে প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণ না হলে আসবে না। প্রক্রিয়া যদি সম্পূর্ণ হয়, এখানে যে বিষয়গুলো সংশোধনের আছে; বিষয়গুলো সংসদ সংশোধন করা হবে।

বাম দলগুলোকে আওয়ামী লীগ কখনো তার সাথে জোট করার জন্য আহ্বান জানায়নি দাবি করে তিনি বলেন: আমি কোনো জোটকে নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে ঐক্য করতে বলিনি। আমি বলেছি, বামপন্থীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে। বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শ্রদ্ধা করে। বামপন্থীরা আপনাদের ভেতরে কেন এত ভাঙ্গনের সুর। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। তাদের আমাদের সাথে ঐক্য করতে আমি বলিনি। আমরা ঐক্য চেয়েছি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে, আমরা ঐক্য চেয়েছি নষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে; আমরা জাতীয় ঐক্য চেয়েছি স্বাধীনতার শত্রুদের বিরুদ্ধে।
দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ নয় বিএনপিই রাজনীতি করেছে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংগঠনিক নেতা বলেন: বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ উপযুক্ত জায়গা আমাদের পর আদালতও সেটা বলছে। তাহলে আমাদের ভুল কোথায়। আমরা কখনও বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করিনি। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতি করছে বিএনপি।
এ সময় এ সময় তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি’র সকল অপরাজনীতি রুখে দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে বলেন: এটা ২০১৪ সাল না ২০১৮ সাল। নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে কোনো নাশকতা করলে তার সমুচিত জবাব দেবে বাংলাদেশের জনগণ।
বিএনপি সোজা পথ দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই এটা মনে করার কোনো কারণ নেই মন্তব্য করে কাদের বলেন: এই যে আমি প্রচারপত্র বিলি করতে আসলাম, গতকাল তেজগাঁও-ফার্মগেট এ গিয়েছিলাম; কত লোক! আজকে এখানে শুক্রবার নামাজের সময় তাও লোকের কমতি নেই। এখানে তো ৬০-৭০ জনের বেশি লোক হওয়ার কথা নয়। এই যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার গেলাম, উত্তরবঙ্গে গেলাম ট্রেনে- কত লোক, রাস্তায় লক্ষ লক্ষ লোক। বিএনপির বুঝে ফেলেছে সোজা পথে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনগণ তাদের চায়না।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি ও মিরপুর গাবতলি এলাকার সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম এর সভাপতিত্বে গণসংযোগে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকে।







