নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আজ সোমবার থেকে আমরণ অনশনে যাচ্ছেন। তাদের দাবি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি।
ভাবতে খুবই অবাক লাগে, যারা আমাদের ভবিষ্যত গড়ার কারিগর তাদের সাথে দফায় দফায় ওয়াদা ভঙ্গ করা হয়েছে। বারবার এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়ন করেনি। যার কারণে আজ সোমবার থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা অনশনের ডাক দিয়েছেন।
এই জুন মাসের ১০ তারিখে শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশী বাধার মুখে পড়ে। পরে শিক্ষামন্ত্রী তাদেরকে আন্দোলন না করার অনুরোধ করেছিলেন। এবং বলেছিলেন তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে তারা একই দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছিলেন। ধর্মঘট পালনের কদিন পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তার আশ্বাসে শিক্ষক-কর্মচারীরা কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন।
এরপর তারা আর কর্মসূচি দেয়নি। তারা আশা করেছিলেন এবারকার ২০১৮-১৯ সালের বাজেটে তাদের এমপিওভুক্ত করা হবে। আমাদের অর্থমন্ত্রী সাহেব বাজেটে ব্যাংকের চোর-বাটপারদের সুবিধা দিলেও অল্প বেতনের আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি। যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে খোশমেজাজে আছেন তাদের টিকিটি ধরার ব্যাপারে তার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বরং ব্যাংকের মূলধন বাড়ানোর জন্য এবারও জনগনের করের টাকা নেয়ার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
তো যাই হোক, এমপিওভুক্ত করার ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণের তৎপরতা না দেখে শিক্ষক-কর্মচারীরা আমরণ অনশনে যাচ্ছেন। এটা জাতির জন্য বড়ই দুর্ভাগ্যের বিষয়।
জানা গেছে, ২০১০ সালের পর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে সারা দেশে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২টি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। যারা ন্যুনতম বেতন-ভাতা না পেয়ে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকার কেন বারবার এসব শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে সাপ-লুডু খেলছেন? তারা কি মনে করেন এরা নিরীহ মানুষ? প্রান্তিক জনগোষ্ঠি? এদের ভোটের কি কোনো মূল্য নেই? নাকি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এদের ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় যাবার পাঁয়তারা করছেন সরকার। বোকার স্বর্গে বসবাস করলে এমন ভাবতে কোনো দোষ নেই।
যেখানে সরকার গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকি খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করার পরও দৃষ্টান্তমূলক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না, সেখানে জাতি গড়ার কারিগরদের ব্যাপারে এতটা উদাসিন কেন? বোধগম্য হচ্ছে না। এই বিমাতাসুলভ আচরণের কারণ কি?
গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন রাজপথে একজন বয়স্ক শিক্ষক নিজেদের একটু বেতন ভাতার জন্য অনশন করবেন, তখন কি আমাদের ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি পাওয়া প্রধানমন্ত্রী নিরব থাকতে পারবেন?
বিশ্বাস করি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার নিরব থাকবেন না। তিনি এবার বাজেটে শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি মেনে নেবেন। আর কেউ না বুঝলেও তিনি শিক্ষকদের মর্যাদা বুঝবেন ঠিকই।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








