প্রত্যেক বছরই দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নানা কৌশল অবলম্বনে সক্রিয় হয়ে উঠে বিভিন্ন জালিয়াতি চক্র। ঘটে থাকে নানান নেতিবাচক ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ফলে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পালন করতে হয় বাড়তি দায়িত্ব। ছুটে চলতে হয় বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ও ঘটনাস্থলে। চোখ রাখতে হয় জালিয়াতি চক্রের পিছনে।
প্রতিবছরই ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সক্রিয় ও তৎপর ভূমিকা পালন করে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা। গত বছরও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের সহযোগীতায় জালিয়াত চক্রের ১০ জনেরও বেশি সদস্যকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এসব দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের লাভ? লাভ কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন ও সাংবাদিকতা পেশায় অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকা। সাংবাদিকতার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসার জায়গা থেকে একজন শিক্ষার্থী এ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অধিকাংশ ক্যাম্পাস সাংবাদিকই নামেমাত্র বেতনে কাজ করেন, অনেককে আবার বেতন ছাড়াই কাজ করতে হয়। ফলে এ কথা স্পষ্টতই বলা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেবল অর্থ উপার্জনের জন্য এ পেশাকে বেছে নেননি। কোন মহৎ উদ্দেশ্য থেকেই তারা এ পেশায় জড়িয়েছেন।
তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীন। নানামুখি চাপ মোকাবিলা করে এসব নবীন সাংবাদিকদের টিকে থাকতে হয়। অপরাধীরা বিভিন্ন পেশীশক্তির দাপটে সাংবাদিকের টুটি বারবার চেপে ধরতে চায়। নির্ভীক ও সত্য সাংবাদিকতাকে ‘হলুদ সাংবাদিকতার’ তকমা লাগিয়ে সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করতে চায়। তবুও সাংবাদিকতা জগতে ‘শিক্ষানবিস’ সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালনে ভয়ে সামান্য পিছু পা হয় না।
ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আরও কিছু নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। একদিকে রয়েছে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চাপ। অন্যদিকে রয়েছে ছাত্রসংগঠনগুলোর অসহিষ্ণু কার্যকলাপ। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চায় তাদের দুর্বলতা, ত্রুটি, অদক্ষতা আড়াল করতে, অপরদিকে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন চায় তাদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রের প্রকাশ্য মহড়া দেয়ার মতো ঘটনা দেশের মানুষের কাছে অপ্রকাশিত রাখতে। ফলে এ দুইয়ের মাঝে ভয়-ভীতি, হুমকি-ধামকি প্রভৃতি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা চালিয়ে যেতে হয়। এরমধ্যে আরও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অপ্রকাশিত হয়রানি, ছাত্রত্ব হারানোর ভয়।
গত বছরও সাংবাদিকদের সক্রিয় দায়িত্ব ও প্রশংসাসূচক ভূমিকা পালন করায় পরীক্ষা শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জানানো হয়। দিনশেষে তাদের জন্য প্রাপ্তি থাকে শুধু ধন্যবাদটুকুই!!!
গত বছরের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট আইডি কার্ড প্রদান করার কথা থাকলেও এবছরও তা সরবরাহ করা হয়নি। ফলে বরাবরের মতোই সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে হিমশিম খেতে হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রক্টরিয়াল টিমের কোন এক সদস্যের কাছে এক সাংবাদিককে নাজেহাল হতে হয়েছে। ওই সাংবাদিকের অপরাধ ছিলো একটাই, ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে আসা ঢাবি শিক্ষার্থীর সাথে জড়িত মূল হোতা ও জালিয়াত চক্রকে ধরতে অনুসন্ধান চালানো। এ যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার প্রচেষ্টা। প্রক্টরিয়াল টিমের একজন সদস্য হয়ে সাংবাদিকদের সাথে এমন অসদাচরণ মোটেও কাম্য নয়।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)







