চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি

No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

বিশ্ববিদ্যালয়

মোহাম্মদ জাফর ইকবালমোহাম্মদ জাফর ইকবাল
১১:০৯ পূর্বাহ্ন ১৯, নভেম্বর ২০১৫
মতামত
A A

 ১
বছরের এই সময়টা মনে হয় দীর্ঘশ্বাসের সময়। এই সময়টিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলো হয়। খুব সহজেই সব বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটা ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারতো কিন্ত তারপরও শুধুমাত্র কিছু বাড়তি টাকা উর্পাজন করার জন্য প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। বছরের এই সময়টাতে দেশের ছেলে মেয়েরা একেবারে দিশে হারা হয়ে দেশের এক মাথা থেকে অন্য মাথায় পাগলের মত ছুটে বেড়ায়। পরীক্ষার সময় কিছু জাল শিক্ষার্থী ধরা পড়ে, কিছু হাইটেক নকলবাজ ধরা পড়ে। যে কয়জন ধরা পড়ে তার তুলনায় নিশ্চিত ভাবেই অনেকে ধরা পড়ে না- সেটি নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই।মেডিকেল পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হবার পরও সরকার বা কর্মকর্তারা চোখ বুজেঁ থেকেছেন।বড় অন্যায় বুজেঁও যদি চোখ বুঁজে থাকি তাহলে কিছু “সৃজনশীল” নকলবাজ যদি পুরো প্রকৃয়াটাকে কাঁচকলা দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়ে যায় তাহলে সেটা নিয়ে হই চই করার কী আছে? আমরা তো রাষ্ট্রীয়ভাবেই ঠিক করে নিয়েছি লেখাপড়া একটা গুরুত্বহীন বিষয়!

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল দেবার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শুরু হয়। সেটি আমাদের জন্যে সব সময়ই একটা মন খারাপ করা বিষয়। সব বিশ্ববিদ্যালয়েই দুই একটি বিষয় হচ্ছে “কাঙ্খিত” বিষয়, সবাই এই বিষয়গুলো পড়তে পারে না। তাদের দেখে মনে হয় তাদের জীবন বুঝি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেল! কাজেই ভর্তি প্রকৃয়া শেষ হবার পর অলস কিছু ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া অন্য সবাই আবিস্কার করে তারা যে বিষয় পড়ার স্বপ্ন দেখেছিল সেই বিষয়টি পায়নি, ফলাফলের ক্রমানুসারে তার হাতে কোন বিষয় ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই বিষয়টি পড়ায় তাদের আগ্রহ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের লেখাপড়া হওয়া উচিত আনন্দ এবং উৎসাহময়, এখানে জ্ঞানের চর্চা হবে এবং জ্ঞানের সৃষ্টি হবে কিন্তু আমরা দেখি বেশরিভাগ ছাত্র-ছাত্রী নিরানন্দ একটা পরিবেশে কোন ভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছে! যে ছেলে মেয়ে গুলো এই পরিবেশে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে এবং একটা ডিগ্রী নিয়ে বের হতে পারে আমি সব সময় তাদের সেল্যুট জানাই! আমি আজকাল সবসময় জোর গলায় সবাইকে বলি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুমের ভেতরে একজন ছাত্র বা ছাত্রী যেটুকু শিখে তার চাইতে অনেক বেশী শিখে ক্লাশরুমের বাইরে! এই দেশে আমি প্রায় বিশ বৎসর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার সাথে যুক্ত আছি, আমার অভিজ্ঞতা খুব কম হয়নি। আমি মোটামুটিভাবে যথেষ্ট গুরুত্ব নিয়ে বলতে পারি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আমরা এখনো ঠিক করে মূলায়ন করতে পারি না! একজন ছেলে বা মেয়ের অনেক ধরনের বুদ্ধিমাত্তা থাকে, আমরা তার মাঝে শুধু কাগজে কলমে লেখাপড়ার বুদ্ধিমাত্তাটা যাচাই করি, তাঁর যে আরো নানা রকম বুদ্ধিমাত্তা আছে সেগুলোর খোঁজ নিই না। আমি মোটামুটি অবাক হয়ে আবিস্কার করেছি যে আমার অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর ভেতর যারা পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল করেছে সত্যিকারের জীবনে তারাই আবার সত্যিকারের সাফল্য দেখিয়েছে সেটি পুরোপুরি সত্য নয়। ক্লাসরুমে একেবারে গুরুত্বহীন ছাত্রটি, থাকে কখনো ভালো করে লক্ষ্য করিনি, সে অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা ফলের নেতৃত্ব নিয়ে সবাইকে চমৎকৃত করে দিচ্ছে- এই ঘটনাটি এতোবার ঘটেছে যে আমি পরীক্ষার পলাফল বিষয়ে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছি! আমি নেজের অজান্তেই এখন আমার ছাত্রছাত্রীদের ভেতর লেখাপড়ার বুদ্ধিমাত্তার বাইরে অন্য বুদ্ধিমত্তাগুলো খুঁজে বেড়াই।

২.
আমাদের দেশের সবচেয়ে উৎসাহী এবং আগ্রহী ছেলেমেয়েগুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়। দেশে এখন একশ থেকে বেশী পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। প্রাইভেট এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটোরই পড়াশোনার পদ্ধতি মোটামুটি একরকম। সময়ের সাথে সাথে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে আমরা যখন পড়াশোনা করেছি তখন তিন বছর পর একটা ফাইনাল পরীক্ষা হতো- বিষয়টি চিন্তা করেই এখন আতংকে আমার গায়ের লোম দাড়া হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির তিন বৎসর পর যদি পরীক্ষা দিতে হয় তাহলে প্রথম দুই বৎসর গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ালে কারো কিছু বলার থাকে না। তৃতীয় বৎসরে এসে প্রথম বার কী কী বিষয়ে লেখাপড়া হয় সেগুলো একটু খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছি এবং পরীক্ষার ঠিক তিন মাস আগে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে পড়ালেখা শুরু করেছি। সেই পড়ালেখা ছিল এক ধরনের ভয়ংকর অমানবিক লেখাপড়া- খাওয়া ঘুম এবং প্রকৃতিক কাজ ছাড়া এক মহুর্ত্তের জন্যে পড়ার টেবিল থেকে না উঠে যে টানা পড়াশোনা করা সম্ভব সেটি এখন আমার নিজেরও বিশ্বাস হয় না। আমার মনে আছে সময়মতো খাওয়া ও ঘুম হবার কারণে অনার্স পরীক্ষার্থী আমাদের সবার স্বাস্থ্য ভালো হয়ে গিয়েছিল এবং দরজা জানালা বন্ধ করে চব্বিশ ঘন্টা অন্ধকার ঘরে বসে থাকার কারণে ইটের নিচে চাপা পড়ে থাকা ঘাসের মত আমাদের গায়ের রং ফর্সা হয়ে গিয়েছিল।

আমরা যখন পড়াশোনা করেছি তখন স্নাতক ডিগ্রী দেয়া হতো তিন বছর পর সেটাকে বলা হতো অর্নাস ডিগ্রী। তারপর একজন এক বছর লেখাপড়া করে একজন মাস্টার্স ডিগ্রী পেয়ে যেতো। মোটামুটি চার বৎসরেই লেখা পড়া শেষ- সেশন জ্যামের কারণে সেটা হয়তো মাঝে মাঝে আরো বেড়ে যেতো। মিলিটারী শাসনের সময় মনে হয় লেখাপড়ার গুরত্ব ছিল সবচেয়ে কম তাই সেশন জ্যাম ছিল সবচেয়ে বেশী। তিন-চার বৎসরের লেখা পড়া করতে সাত আট বৎসর লেগে যেতো।

আমি দেশে আসার পর তিন বছরের স্নাতক ডিগ্রীটা পাল্টে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রী করে ফেলার পরিবর্তনটুকু নিজের চোখে দেখেছি। সত্যি কথা বলতে কী আমি দায়িত্ব নেবার পর প্রথম ব্যাচটি তিন বছরে তাদের স্নাতক ডিগ্রী শেষ করেছিল। এর পরের বছর থেকে সবাই চার বছরে তাদের স্নাতক ডিগ্রী নিতে শুরু করেছে। পৃথিবীর বেশীর ভাগ দেশের সাথে মিল রেখে এই পরিবর্তনটুকু করা হয়েছিল এবং আমি নিশ্চিতভাবে জানি তখন আমরা সবাই মিলে ঠিক করেছিলাম এই চার বছরের স্নাতক বা ব্যাচেলর ডিগ্রী হবে চূড়ান্ত বা টার্মিনাল ডিগ্রী। অর্থাৎ চার বছর পড়াশোনা করে ডিগ্রী নিয়ে সবাই কাজ কর্মে ঢুকে পড়ে। আগেও চার বছর লেখাপড়া করে কর্ম জীবন শুরু করে দিতো নূতন নিয়মেও সবাই চার বছর লেখা পড়া করে কর্ম জীবন শুরু করে দিতো নূতন নিয়মেও সবাই চার বছর লেখাপড়া করে কর্ম জীবনে ঢুকে যাবে।

Reneta

সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের মাস্টার্স করার কোন প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর অন্যসব দেশের সাথে মিল রেখে মাস্টার্স করবে শুধু মাত্র যারা শিক্ষকতা করবে বা গবেষণা করবে সেই ধরণের ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু এক ধরণের বিশ্ময় নিয়ে আবিস্কার করলাম কেমন করে জানি চার বছরের স্নাতক বা ব্যাচেলরস ডিগ্রীটাকে চুড়ান্ত(টার্মিনাল) ডিগ্রী হিসেবে বিবেচনা না করে মাস্টার্স ডিগ্রীটাই টার্মিনাল ডিগ্রী হিসেবে ধরে নেয়া হল। চাকরী বাকরীর বিজ্ঞাপনে আবার সবাই মাস্টার্স ডিগ্রী চাইতে শুরু করল এবং ছাত্রছাত্রীরা তাদের ব্যাচেলরস ডিগ্রীর পর আবার এক বছর দেড় বছর কিংবা দুই বছরের একটা মাস্টার্স ডিগ্রীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হলে একজন মানুষের জন্যে এক বছর দুই বছর অনেক দীর্ঘ সময়, আমরা অনেক ছাত্র ছাত্রীদের জীবন থেকে অবিবেচকের মত এই সময়টুকু কেড়ে নিতে শুরু করলাম। আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত ছেলে মেয়েরা যত তাড়াতাড়ি লেখাপড়া শেষ করে কর্মজীবনে ঢুকে যাবে তাদের জন্য সেটা ততই মঙ্গল কিন্ত আমরা অবিবেচকের মত সেটা হতে দিচ্ছি না।

পাশ্চাত্যের অনেক দেশের অনুকরণ করে আমরা তিন বছরের স্নাতক ডিগ্রীকে চার বছরের স্নাতক করেছি। এর সাথে সাথে চার বছরের সেই সব দেশের মত চার বছরের ডিগ্রীটাকেও চূড়ান্ত ডিগ্রী হিসেবে বিবেচনা করা উচিৎ ছিল। আমরা সেটা করিনি। সে কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর উপরেও অনেক বাড়তি চাপ পড়েছে যেটা আমরা প্রতি মূহুর্ত্তে টের পাই।

৩.
ঠিক কী কারণ জানা নেই আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম তখন পাশ করে চাকরী পাব কী না সেই বিষয়টা নিয়ে একেবারেই কোন মাথা ব্যথা ছিল না। আমাদের যার যে বিষয় পড়ার শখ সেই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছি। দেশ তখন মাত্র স্বাধীন হয়েছে অর্থনীতি বলে সেই সময়ে চাকরী বাকরী নিয়ে আমাদের অনেক ব্যস্ত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু আমরা মোটেও ব্যস্ত হইনি। মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার আগে আমাদের স্যারেরা খুব পরিস্কার করে বলে দিয়েছিলেন, “দেখো বাবারা এই সাবজেক্ট পড়ে কিন্তু তোমরা কোন চাকরী বাকরী পাবে না-” সেটা শুনেও আমাদের উৎসাহে কোন ভাটা পড়েনি, কারণটা কী এখনও আমি বুঝতে পারি না।

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সময় একজন ছাত্রছাত্রী সে কোন বিষয়ে পড়ছে সেটা নিয়ে যত উদ্বিগ্ন থাকে তার চাইতে শতগুন বেশী উদ্বিগ্ন থাকেন তাদের অভিভাবকেরা। আমি অনেকবার দেখেছি ছেলে মেয়েরা তাদের পছন্দের বিষয় না পড়ে অনেক সময়ই বাবা মায়ের চাপে পড়ে অন্য বিষয়ে ভর্তি হয়ে যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো সময়টুকু লম্বা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাটিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাটানোর কথা নয়- আগ্রহ এবং উৎসাহ নিয়ে সময় কাটানোর কথা।

এক সময় এই দেশের অল্প কিছু মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা পড়া করতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও ছিল একেবারে হাতে গোনা- এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা যে রকম বেড়েছে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও বেড়েছে। আমি যতদূর জানি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা থেকে বেশী। এই বিশাল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের ঠিক করে লেখাপড়া করানো এখন খুবই জরুরী।

পৃথিবীর নানা দেশে নানা ধেরণের বিশ্ববিদ্যারয় আছে এবং তাদের অনেকগুলোই খুবই চমৎকার ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের নানা ধরণের পদ্ধতি চেষ্টা করে একটা সফল পদ্ধতি বের করার প্রয়োজন নেই, যে পদ্ধতিগুলো ইতোমধ্যে ভালোভাবে কাজ করেছে সেগুলোই আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু করে দেয়া যায়। আমি এরকম দুটো বিষয়ের কথা উল্লেখ করতে পারি।

প্রথমটি হচ্ছে দুটি বিষয়ে ডিগ্রী নেওয়া। আমাদের স্বীকার করে নিতেই হবে কোন কোন বিষয়ের ডিগ্রী থাকলে চাকরী বাকরী পাওয়া সহজ হয়। ছাত্রছাত্রীদের সেই বিষয়ে পড়ার অনেক আগ্রহ থাকে-যারা এই বিভাগে ভর্তি হতে পারেনি তাদেরকেও এই বিষয়ে ডিগ্রী নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যায়। কাছাকাছি দুটি বিষয়ের জন্য বিষয়টি খুবই সহজ-তার জন্যে ছাত্রছাত্রীদের শুধু বাড়তি কিছু কোর্স নিতে হয়। নিজেদের উপর বাড়তি চাপ না দিয়েই ছেলে মেয়েদের পক্ষে দ্বিতীয় একটি বিভাগে ডিগ্রী নেওয়া সম্ভব। আমি যতদূর জানি আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্তত পক্ষে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদ্ধতি চালু আছে।

দ্বিতীয় বিষয়টি এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটু নতুন হলেও আমার ধারণা এটি খুবই প্রয়োজন।একজন ছাত্র কোন বিষয়ে পড়াশোনা করবে সেই সিদ্ধান্তটি ভর্তির সময়ে না নিয়ে এক কিংবা দুই বছর পরে নেয়া।সব ছাত্রছাত্রীদেরকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক কিছু বিষয়ে কোর্স নিতে হয়।ছাত্রছাত্রীরা যদি প্রথম দুই বছর সেই কোর্সগুলো নিতে থাকে তাহলে সে বুঝতে পারে কোন বিষয়টাতে লেখা পড়া করা তার জন্য বাস্তব সম্মত।ভর্তি পরীক্ষায় আমরা আসলে একজন ছাত্র বা ছাত্রীর সঠিক মূল্যায়ন করতে পারিনা।এক বা দুই বছর সে যদি অনেক গুলো কোর্স নিয়ে নেয় তখন তার ফলাফল থেকে সেই ছাত্র বা ছাত্রীর প্রকৃত সামর্থ কিংবা দূর্বলতা ধরে দেয়া যায়।তখন ছাত্র বা ছাত্রীটিকে কোন একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ করে দিলে সেটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভালো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও ভালো।আমি সে দুটি বিষয়ের কথা বলছি এর দুটিই কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশেই চালু আছে এবং ছেলে মেয়েরা এই পদ্ধতিতে বেশ ভালো ভাবেই পড়াশোনা করে থাকে।যেহেতু আমাদের লেখা পড়ার পদ্ধতি মাঝে মাঝেই পরিবর্তন করতে হয় তাই এধরনের বড় একটা পরিবর্তন করার সাহস করা খুব কি কঠিন?

৪.
পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মাঝে মাঝে র‌্যাংকিং করা হয়, অর্থাৎ কোনটা ভালো বা এক নম্বর, কোনটা দুই নম্বর এভাবে তালিকা করা হয়। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কখনোই সেই তালিকায় আসে না কিংবা আসলেও সেটা এতো নিচে থাকে যে আমরা সেটা দেখলেও না দেখার ভান করি! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর অনেক গুলোই তালিকার একেবারে উপরের দিকে আছে এবং আমরা ধরে নিতে পারি যে তাদের লেখা পড়ার পদ্ধতি নিশ্চয়ই অসাধারণ।

মজার ব্যাপর হচ্ছে আমি যুক্তরাষ্ট্রের একজন খুব বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ একজন ইঞ্জিনিয়ারের একটা লেখা পড়ে খুবই অবাক হয়েছিলাম। তিনি লিখেছেন যে “আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখা পড়ার পদ্ধতি হচ্ছে জঘন্য এবং কুৎসিত। ছেলেমেয়েরা কিছুই শিখেনা এবং মানে না। তারপরেও আমরা এই সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হওয়া ছেলেমেয়েদের খুব আগ্রহ নিয়ে চাকরী দেই একটি মাত্র কারনে, সেটি হচ্ছে এ রকম জঘন্য এবং কুৎসিত একটা পদ্ধতিতে তারা টিকে গেছে এবং বের হয়েছে। নিশচয়ই তারা অসাধারন তা না হলে তারা কেমন করে এই কুৎসিত পদ্ধতি থেকে বের হতে পারলো? যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা কিছুই শিখে আসে না তাই চাকুরী দেয়ার সময় আমরা তাদের প্রয়োজনীয় বিষয় শেখাই এবং তারা তখন সত্যিকারের কাজের মানুষ হয়।”

সেই বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারের কথা পড়ে আমি  হাসি চেপে রাখতে পারিনি আবার একই সাথে এক ধরনের শান্তনা পেয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর জন্যও আমরা নিশ্চয়ই একই কথা বলতে পারব। আমাদের ছেলেমেয়েদের বেলায় আমরা আরো নতুন কথা যোগ করতে পারবো- তাদেরকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া শিক্ষকদের কাছে পড়তে হয়, ছাত্র রাজনীতির ধাক্কা সামলাতে হয়। ছাত্র রাজনীতির ধাক্কা সামলাতে হয়, অনেককে প্রাইভেট টিউশানী করে খরচ চালাতে হয়। কাজেই সেশন জ্যামের পীড়ণ সহ্য করে শেষ পর্যন্ত তারা যখন বের হয় তখন তারা সবাই নিশ্চয় এক ধরণের অসাধারণ ছেলে মেয়ে!

তাই আমি আমার সব ছাত্রছাত্রীকে মনে করিয়ে দিউ ক্লাস রুমের ভিতরে তারা যেটুকু শিখবে তার থেকে অনেক বেশী শিখবে ক্লাস রুমের বাইরে! ম্যাক্সিম গোর্কির একটি বইয়ের নাম “আমার বিশ্ববিদ্যালয়”(My universities) এটি একটি অসাধারণ বই যেখানে তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন।

মজার ব্যাপার হচ্ছে ম্যাক্সিম গোর্কি কিন্তু কখনো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেননি- এই পৃথিবীটাই ছিল তার বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.১১.১৫

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: বিশ্ববিদ্যালয়মুহম্মদ জাফর ইকবাল
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

অভিষেকের ‘ডাকের হ্যাটট্রিক’ নিয়ে ভাবছেন না ভারত অধিনায়ক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুধ দিয়ে গোসল করে অনলাইন জুয়া ছাড়লেন যুবক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ভারতকে চাপের মধ্যে রেখে জিততে চায় প্রোটিয়ারা

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড সুপার এইট, পয়েন্ট ভাগাভাগি

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজির মামলায় এনসিপি নেতা কারাগারে

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: মীর মাসরুর জামান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT