ইংল্যান্ডে ১৯৯৯ সালে ছেলেদের পর নিউজিল্যান্ডে ২০২২ সালে মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ— দুটো জায়গায় বাংলাদেশের কাছে নাস্তানাবুদ পাকিস্তান। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে লাল-সবুজের দুটি দলই হারের স্বাদ দিলো নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপে।
নিরানব্বইয়ে নর্দাম্পটনে ওয়াসিম আকরাম-সাঈদ আনোয়ারদের নিয়ে গড়া দুর্দান্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় জয় তুলেছিল আমিনুল ইসলাম-খালেদ মাহমুদ সুজনদের দল। দুঃস্বপ্নের সেই স্মৃতি প্রায় দুইযুগ পর পাকিস্তানকে ফিরিয়ে দিলো নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। সোমবার বিসমাহ মারুফদের ৯ রানে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রথম জয় তুলেছে বাংলাদেশ।
১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুতে ব্যাট করে শাহরিয়ার হোসেনের ৩৯, আকরাম খানের ৪২ রানে ভর করে পুঁজি ২২৩-এ নেয় আমিনুল ইসলামের দল।
সেই বিশ্বকাপে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারা পাকিস্তান গ্রুপপর্বের ম্যাচটিতে জবাব দিতে নেমে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল ১৬১ রানে। খালেদ মাহমুদ-নাঈমুর রহমানদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে খাবি খেয়েছিলেন সাঈদ আনোয়ার, ইনজামাম-উল-হক ও সেলিম মালিকরা। শতরান পেরোতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত ৪৪.৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহের ৬২ রান পেছনে থেকে থামতে হয় ওয়াসিম আকরাম বাহিনীকে।
সেদিনের মতো রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে হ্যামিল্টনেও, লাল-সবুজের মেয়েরা তুলেছে প্রথম জয়। শারমিন আক্তার ৪৪, অধিনায়ক নিগার সুলতানা ৪৬ এবং ফারজানা হকের ৭১ রানে ২৩৪ পর্যন্ত যায় বাংলাদেশ। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংগ্রহ গড়ে।
চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিয়ে অবশ্য স্বস্তিতে ছিলেন না সালমা-ফাহিমারা। পাকিস্তানের নাহিদা খান ৪৩ ও বিসমাহ মারুফের ৩১ রানের পর সেঞ্চুরি হাঁকানো সিদ্রা আমিন হয়ে ছিলেন গলার কাঁটা। ৪০ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখে ১৮২ রান তুলে চোখ রাঙাচ্ছিল দলটি। টাইগ্রেসদের ত্রাতা হয়ে আসেন ফাহিমা খাতুন ও সালমা আক্তার। ১৮৩ থেকে ১৮৮ রানের মাঝে প্রতিপক্ষের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
৫ রানের মাঝে ৫ উইকেট হারানোর ধাক্কা আর সামালে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। শতক হাঁকানো সিদ্রা আমিন (১০৪ রান) কিছুটা অপেক্ষায় রেখেছিলেন। জয় থেকে ২০ রান দূরে রিতু মনির থ্রোতে রান আউটে কাটা পড়েন তিনি। পাকিস্তানকে অল আউটের স্বাদ দিতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত অভিষেক ওয়ানডে বিশ্বকাপে তাদের দুঃস্বপ্ন ফিরিয়ে দিয়েই প্রথম জয় এনেছে টিম টাইগ্রেস।







