চট্টগ্রাম থেকে: দলের অন্য ক্রিকেটাররা যখন ছুটি কাটান, তখন শরীর ফিট রাখতে জিমে ঘাম ঝরান মুশফিকুর রহিম। স্কিল অনুশীলনে ব্যাট হাতে নামেন সবার আগে। পরিশ্রমে বিশ্বাসী সেই ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। মুশফিকের টেকনিক নিয়ে আলোচনা মূল কারণ চট্টগ্রাম টেস্টে তার ১০৩ বলে ৩১ রানের ইনিংসটি।
বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ানের ব্যাটে আসা এ রান হয়ত তেমন কিছুই নয়। কিন্তু উইকেট বিচারে ১০৩ বল সংগ্রাম করা সহজ ছিল না মোটেও। চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনে ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষার আদর্শ এক ভূমি হয়ে ওঠে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ২২ গজ। বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা দুই অজি স্পিনার লায়ন-ও’কিফকে দারুণভাবে সামলে মুশফিক আউট হয়েছেন পেসার কামিন্সের বলে।
চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম তিনদিন ব্যাটসম্যানদের পক্ষে কথা বলা উইকেট চতুর্থ দিনের সকাল থেকে হয়ে উঠল বোলারদের। বাড়তি বাউন্স, টার্নের পাশাপাশি হঠাৎ বল নিচু হয়ে যাওয়া। চতুর্থ দিনে এসে বোলারদের জন্য যেন সব সপে দেওয়ার পণ করেছে উইকেট। যেদিন কিনা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ।
ব্যাটসম্যানদের টেকনিক পরখের আদর্শ মঞ্চে একশ’র উপরে বল খেলে বড় বিপর্যয় (৪৩ রানে ৫ উইকেট) কাটিয়ে নিয়েছেন মুশফিক। কঠিন পরিস্থিতিতে উইকেটে কাটিয়েছেন ১২৮ মিনিট। তার ইনিংসে বাউন্ডারি মাত্র একটি। লায়ন, ও’কিফকে সামলাতে দারুণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ব্যাট-প্যাডের মাঝে কোনো ব্যবধান রাখেননি। বিভীষিকার উইকেটে সাবলীল ব্যাটিং করেছেন। তামিম-সাকিব-সাব্বিররা যেভাবে আউট হয়েছেন তাতে ফুটে উঠেছে টেকনিকে দুর্বলতা।
দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে একজন আদর্শ ব্যাটসম্যানের যা কিছু অপরিহার্য উপাদান থাকা দরকার, তার পুরোটাই আছে মুশফিকের। পরিপাটি ও পরিশুদ্ধ টেকনিক। বলের মেধা-গুণ বিচার এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে নেওয়ায় মুশফিক সবার উপরে। ব্যাটিং কৌশল, দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকার ধৈর্য, মনোযোগ, উইকেট বোঝা, নিজের টেকনিকের উপর বিশ্বাস। সবমিলে বাংলাদেশের উইলোবাজদের মধ্যে নাম্বার ওয়ান মুশফিক।







