টাঙ্গাইলে বিএনপি’র সহযোগি সংগঠন ছাত্রদলের নেতৃত্ব বিবাহিতদের দখলে। কমিটির
জ্যেষ্ঠ সকল নেতাই বিবাহিত। পদ দখলে রাখা নেতারা ছাত্রত্ব থেকেও অবসর
নিয়েছেন অনেক আগেই।
অর্ধযুগ হয়ে গেলেও সম্মেলন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব উঠে
আসতে পারছে না। ফলে অনেকটাই বিক্ষুদ্ধ ও হতাশায় ভুগছেন তরুণ সম্ভাবনাময়
ছাত্র নেতারা। এদিকে নেতৃত্বে জটিলতার কারণে দলের নেয়া যে কোন ধরণের
কর্মসূচীও সফল হচ্ছে না বলে জানান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ।
জানা যায়, ২০০৯ সালে সর্বশেষ জেলা ছাত্রদলের সম্মেলন হলেও ভোট ছাড়াই বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার রাশেদুল আলম সভাপতি ও একই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। তারা দু’জনসহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান উজ্জ্বল বিয়ে করেছেন অনেক আগেই।
৩৫০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ২২ জন সহসভাপতির সবাই এবং ২২ জন যুগ্ম সম্পাদকের মধ্যে নুরুল ইসলাম ও কে এম তৌহিদুল ইসলাম বাবু ব্যতিত সবাই বিবাহিত। ফলে জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে থাকা বিবাহিতদের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে।
গঠণতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর অন্তর সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কথা থাকলেও অর্ধ যুগের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও সম্মেলন দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছেন তরুণ ছাত্রনেতারাসহ জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতারা।
বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কেএম তৌহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, জেলা ছাত্রদলে ছাত্রদের থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা নেই। সভাপতিমন্ডলী ও যুগ্ম সম্পাদকমন্ডলীর প্রায় সবাই বিবাহিত। ফলে ছাত্রদের সাথে নেতাদের সমন্বয় হচ্ছে না। যে কোন ধরণের কর্মসূচী সফল করতে গঠনতন্ত্র মোতাবেক সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির দাবি জানান তিনি।
সাবেক জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফ পাহেলী বলেন, বর্তমান ছাত্রনেতারা বিবাহিত ও ব্যবসায়ী হওয়ায় সংগঠনের দিকে তাদের মনোযোগ নেই। ফলে আন্দোলন-সংগ্রামে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না। নতুনদের সুযোগ দিলে সংগঠনে গতি ফিরে আসবে। শিক্ষাক্ষেত্র ও রাজনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে।
জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান লিটন বলেন, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ ও পকেট কমিটির নেতাদের বাদ দিয়ে যোগ্য প্রতিশ্রুতিশীল সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ছাত্রদের দিয়ে কমিটি করতে হবে। অলি-গলিতে মিছিল-মিটিং করে ফেসবুকে ছবি দিলেই সংগ্রাম সফল হয় না। ছাত্রদলসহ বিএনপি ও তার সকল অঙ্গসংগঠনের মধ্যে পরিবর্তন আনার দাবি করেন তিনি।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান খান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি নতুন নেতৃত্ব তুলে আনার জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন হলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের অসহযোগিতার কারণে সম্মেলন করা বা নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।







