বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার চ্যালেঞ্জে নেমে শুরুতে দুর্দান্ত লড়ছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। কিন্তু রানের চাপায় শেষ পর্যন্ত পিষ্ট হতে হয়েছে তাদের। টানা চার জয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা রংপুর রাইডার্সকে ছুঁয়ে ফেলেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দুই দলেরই ৮ ম্যাচে সমান ১২ পয়েন্ট। প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনা দুই দলেরই উজ্জ্বল।
মঙ্গলবার বন্দরনগরীর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামকে ৭৩ রানে হারিয়েছে কুমিল্লা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা ছয়-চারের মহোৎসব করে তোলে ২৩৯ রান। বিপিএল ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে বসেন কুমিল্লার ইংলিশ তারকা মঈন আলী। তাতে জয়ের কাজটা দ্রুতই সেরে ফেলে তারা।
ইনিংসের ১৭তম ওভারের প্রথম তিন বলেই চট্টগ্রামের শেষের তিন ব্যাটারকে ফেরান মঈন। একে একে আউট করেন শহিদুল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন, বিলাল খানকে। বিপিএলের চলতি আসরে এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। প্রথমটি করেছিলেন দুর্দান্ত ঢাকার পেসার শরিফুল ইসলাম।
তানজিদ হাসান তামিম ও জস ব্রাউন পাওয়ার প্লে’তে জমা করেন ৬১ রান। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই জমেনি। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ও অফস্পিনার মঈন আলী চারটি করে উইকেট নিয়ে ১৬.৩ ওভারে ১৬৬ রানে থামিয়ে দেন চট্টগ্রামকে। মোস্তাফিজুর রহমান নেন দুটি উইকেট।
চ্যালেঞ্জার্স ওপেনার তানজিদ ২৪ বলে ৪১ রান করে আউট হন। তার পার্টনার জস খেলেন ২৩ বলে ৩৬ রানের ইনিংস। ৭.৩ ওভারে ৮০ রানের উদ্বোধনী জুটি উপহার দেন তারা। এরপর দ্রুত উইকেট হারানোয় ম্যাচে আর ফেরা হয়নি স্বাগতিকদের। মাঝে ১১ বলে ৫ ছয়, ১ চারে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সৈকত আলী দলীয় রান রেট দশের ওপরে রাখেন। তবে স্পিন ভেলকিতে চট্টগ্রামকে থামতে হয় অল্পতেই।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চট্টগ্রাম পর্বের শুরুটা হয়েছে বিশাল স্কোর সঙ্গী করে। ঢাকা ও সিলেটে রানখরা থাকলেও বন্দনগরীতে বিপিএল যেতেই দেখা যায় চার-ছয়ের মহোৎসব। সাগরিকায় আসা দর্শকরা দারুণ উপভোগ করেছেন কুমিল্লার আগ্রাসী ব্যাটিং। বিপিএলে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডেও ভাগ বসায় লিটন দাসের দল।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ হোম টিম চট্টগ্রাম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অনেকের আবার মনও খারাপ হয়েছে। লিটন-মঈনের ঝড়ো ফিফটি আর উইল জ্যাকসের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রানের পাহাড় গড়ে কুমিল্লা।
২০১৯ সালের বিপিএলে চট্টগ্রামেই স্বাগতিক দলের বিপক্ষে অ্যালেক্স হেলস ও রাইলি রুশোর জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ২৩৯ রান তুলেছিল রংপুর রাইডার্স। সেই রেকর্ডে এবার ভাগ বসাল চারবারের বিপিএল চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা।
বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব শুরুর দিন সাগরিকার আবহাওয়া ছিল রৌদ্রজ্জ্বল। উইকেটে হালকা ঘাস থাকলেও সেটি বরং ব্যাটারদেরই বড় শট খেলতে সাহস যুগিয়েছে। কেননা প্রায় প্রতিটি বলের বাউন্স ছিল অনুমেয়।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে আগে বোলিং বেছে নেন চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়ক শুভাগত হোম। শুরুতে লিটন দাস ও পরে উইল জ্যাকস ঝড় তুলে শুরু থেকেই বাড়াতে থাকেন রানের চাকা। পাওয়ার প্লে’তে বিনা উইকেটে ৬২ রান তোলে কুমিল্লা।
দশম ওভারেই চলে আসে দলীয় শতরান। দুইশতে তখন থেকেই চোখ ছিল কুমিল্লার। জ্যাকসের ৫৩ বলে ১০৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে সহজেই দুইশ পেরিয়ে আড়াইশর দিকে ধাবিত হয় কুমিল্লা। শেষ দুই বলে বাউন্ডারি না আসায় সেটি অবশ্য পারেনি দলটি। জ্যাকস ১০টি ছয়ের সঙ্গে মারেন ৫টি চার।
সুযোগ ছিল বিপিএল ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ার। শহিদুল ইসলামের শেষ দুই বলে একটি করে সিঞ্চেলস নেন জ্যাকস ও মঈন। বিপিএলের চলতি আসরে নিজের প্রথম ম্যাচে স্পিনিং অলরাউন্ডার মঈন ২৪ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন। মারেন ৫টি ছক্কা।







