শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু শিক্ষার্থীই নয়, যেসব শিক্ষক বিপথে গেছে তাদেরকেও নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কোনো শিক্ষক যেন ধর্মের অপব্যবহার করে বিপথে যেতে না পারে, সেজন্য তাদের কাউন্সিলিং করার উপরও গুরুত্বারোপ করে তিনি আরো বলেন, জঙ্গিবাদরোধে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও বাড়াতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘শিক্ষার উন্নত পরিবেশ, জঙ্গিবাদ মুক্ত শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক এক শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের শিক্ষার সাথে সৃজনশীলতার চর্চা করলে শিক্ষার্থীরা মেধা চর্চার সুযোগ পাবে। ফলে তারা সংস্কৃতি মনোভাবাপন্ন হয়ে গড়ে উঠবে।
নাহিদ আরো বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক সঠিক পদ্ধতিতে পাঠদান করলে শিক্ষার্থীদের বিপথে যাবার সুযোগ থাকে না।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একটি অপশক্তি দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। সেই সংকট থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন দেশকে আবার জঙ্গিবাদে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।
এসময় শিক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইনের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ থেকে জঙ্গিবাদের শিকড় সমূলে উপড়ে ফেলা হবে।
শিক্ষক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের সচিব সোহরাব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো: আলমগীর ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মাহবুবুর রহমান ।
বক্তরা বলেন, জঙ্গিবাদমুক্ত শিক্ষাঙ্গন করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার প্রয়োজন। এ জন্য প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তি নয়, প্রগতিশীল ব্যক্তির অংশগ্রহণ জরুরী বলেও উল্লেখ করেন তারা।
তারা বলেন, জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশ একটি চলমান প্রক্রিয়া। মানসিক দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন করে স্ব স্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে এলেই বাংলাদেশ জঙ্গিমুক্ত হবে।







