সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে আগামী অর্থবছরে বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে বলে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করলেও এক্ষেত্রে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে অর্থনীতিবিদদের।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বাজেট বক্তৃতায় বলেন: বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য সরকার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ জারি করেছে। এ আইনের বিধান মতে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের কার্যক্রম একীভূত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) গঠন করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান নানামুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে সরাসরি বিনিয়োগের পথে প্রতিবন্ধকতাসমূহ অপসারণে কাজ করে যাচ্ছে। অত্যন্ত যত্নসহকারে ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন প্রণয়ন করেছে এই কর্তৃপক্ষ। এ আইন অনুযায়ী একজন বিনিয়োগকারীর প্রয়োজনীয় আন্ত:মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সকল সেবা কর্তৃপক্ষ নিজেই সম্পাদন করবে।এভাবে একটি বিনিয়োগ প্রস্তাব নয় মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব হবে।
এসব পদক্ষেপের ফলে Rank of doing business –এ বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
বর্তমানে Doing Business-এ বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬। BIDA আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই অবস্থান ১০০ -এর মধ্যে রাখার কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বলেও জানান আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পদক্ষেপ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন: ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমাদের মোট বিনিয়োগ ছিল জিডিপি’র ৩০.৩ শতাংশ। যেখানে সরকারি খাতের বিনিয়োগ ছিল ৭.৩ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমরা মোট বিনিয়োগকে জিডিপি’র ৩১.৯ শতাংশে উন্নীত করতে চাই। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও সরকারি খাতের বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা হলো ২৩.৩ ও ৮.৬ শতাংশ।
তবে বিশাল আকারের বাজেট দেওয়া হলেও তাতে বিনিয়োগবান্ধব তেমন কিছু নেই বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ঘোষিত বাজেটের সাইজ বিশাল। কিন্তু এতে বিনিয়োগবান্ধব তেমন কিছুই নেই। অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপ, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি, উচ্চাহারে ভ্যাট আরোপ করায় বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারে।
আবু আহমেদ মনে করেন, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ায় অর্থ লোপাটের সুযোগ আরও বাড়বে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো যেখানে নিয়মীত মুনাফা করছে, সেখানে সরকারি ব্যাংকগুলো লোকসান দিচ্ছে কেন? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন: আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি বাড়লে সেখান থেকে অর্থ লোপাটের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতির একটি অন্যতম উপাদান শেয়ারবাজার। কিন্তু কিন্তু শেয়ার বাজারকে গতিশীল করার তেমন কিছুই বাজেটে নেই উল্লেখ করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন: কর্পোরেট ট্যাক্স কমলে শেয়ারবাজারের জন্য ভালো হত। কিন্তু সে সম্পর্কে কিছুই অ্যাড্রেস করা হয়নি বাজেটে।
আকারে বিশাল হলেও তাতে প্রয়োজনীয় তেমন কিছু নেই উল্লেখ করে অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন: বাজেট সাইজে বড় মানে জনগণের ওপর বোঝাও বেশি। আর ঘাটতি বাজেট অর্থনীতির জন্য কখনও ভালো কিছু বয়ে আনে না।








