বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেলার আয়োজক জার্মানি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট আবারও আয়োজন করতে যাচ্ছে ভোগ্য পণ্য প্রদর্শনী ‘অ্যাম্বিয়েন্টে’। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে এর আয়োজন করা হবে। এতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের উৎপাদনকারীরা তাদের পণ্যের প্রচার ও প্রসারের ব্যাপক সুযোগ পেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে আয়োজকরা।
মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে মেসে ফ্রাংকফুর্ট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড সদস্য এবং কনজ্যুমার গুডসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টিফান কুরজাওয়স্কি এসব কথা জানান।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জার্মানিতে মেসে ফ্রাঙ্কফুর্টের ভোগ্য পণ্য প্রদর্শনী অ্যাম্বিয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের ৩৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। ওই মেলার বিস্তারিত তুলে ধরতে বাংলাদেশে ২ দিনের সফরে আসেন স্টিফান কুরজাওয়স্কি। সেজন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্টিফান কুরজাওয়স্কি বলেন, এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে অ্যাম্বিয়েন্টে প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ভোগ্য পণ্যের বাজারে রপ্তানির চাহিদাও। এই প্রদর্শনীতে শুধু বাণিজ্য নয়, এর সাথে মেলবন্ধন হয় সৃজনশীলতারও।
মেলার বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে পরিচিত বাণিজ্য মেলাগুলোর একটি। যেখানে পৃথিবীর ৮৮টি দেশ থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার প্রদর্শক এই প্রদর্শনীতে তাদের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে ডাইনিংয়ে রান্নার সরঞ্জাম, সিরামিক এবং কাচের তৈরি পণ্যের প্রদর্শন করে ২ হাজার ২শ জন। গিভিংয়ে হস্তশিল্প, পাটজাত পণ্য, স্টেশনারি, অলংকার, ঘর সাজানোর পণ্য, কস্টিউম জুয়েলারি, এমনকি ব্যক্তিগত পণ্য এবং চামড়াজাত পণ্যে ১ হাজার জন এবং লিভিংয়ে ঘরের জন্য আন্তর্জাতিক মানের অনন্য পণ্য, আভান্ত-গার্ডে ডিজাইন, গৃহ শৈলীর আনুষঙ্গিক পণ্য প্রদর্শন করে ১ হাজার ২শ জন প্রদর্শক।
প্রদর্শনীতে ইটালি, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ড, স্পেন, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সুইজারল্যান্ডসহ ১৬৭ টি দেশ থেকে ১ লাথ ৩০ হাজারের বেশি দর্শনার্থী এবং ক্রেতা অংশ নেয়।
মেসে ফ্রাংকফুর্ট বছরজুড়ে বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় উন্নত মানের লাইফ স্টাইল পণ্যের প্রদর্শনী অ্যাম্বিয়েন্টে। এই প্রদর্শনীতে প্রায় ২৫ বছর ধরে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। উৎপাদনকারীরা ব্যবসার প্রচারের জন্য অ্যাম্বিয়েন্টেতে অংশ নিয়ে থাকে। বিগত বছরগুলোতে বাংলা ক্রাফট এসোসিয়েশনসহ বাংলাদেশের পাট শিল্প এবং সিরামিক শিল্পের পণ্য নিয়ে দর্শনার্থী এবং ক্রেতাদের মধ্যে অনেক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাংলাদেশি অনেক ক্রেতা ও দর্শনার্থীও এতে অংশ নেয়।
এ সময় জানানো হয়, গ্লোবাল সোর্সিং আন্তর্জাতিক পাইকারি ব্যবসায় একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। অ্যাম্বিয়েন্টেতে পৃথিবীর ৫৫টি দেশ থেকে দেড় হাজারের বেশি প্রদর্শক তাদের পণ্য প্রদর্শন করবেন। বিশ্বে একমাত্র চীন ছাড়া ফ্রাঙ্কফুর্টই হলো পাইকারি বাণিজ্যের এক নম্বর ঠিকানা।
২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য অ্যাম্বিয়েন্টে বিষয়ে বলা হয়, এই বাণিজ্যিক প্রদর্শনীর ৫ দিনেই অ্যাম্বিয়েন্টে অ্যাকাডেমি বর্তমান বাজারের সার্বিক অবস্থা এবং এর উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন অন্তর্দৃষ্টি পরিবেশন করবে। বিশেষজ্ঞরা পণ্যের সংকলনের নানা রকম উপায় এবং বাজারে কিভাবে তাদের পণ্যের উপস্থাপন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবেন।
অ্যাম্বিয়েন্টে প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ থেকে ৩২ টি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য প্রদর্শন করেছে। যাদের অনেকে অংশ নিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মাধ্যমে। বিডি ক্রিয়েশন, কনেক্সপো, আরএফএল প্লাস্টিক (প্রাণ গ্রুপ), শাইন পুকুর, এফএআরআর, মুন্নু সিরামিকস।
মেসে ফ্রাংকফুর্ট গ্রুপের নেটওয়ার্কে প্রায় ৩০টি সাবসিডিয়ারি এবং প্রায় ৫৫ জন আন্তর্জাতিক সেলস পার্টনার আছে। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি স্থানে এখন পর্যন্ত ইভেন্টের আয়োজন করেছে মেসে ফ্রাংকফুর্ট। মেসে ফ্রাংকফুর্ট একটি জন মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, যার ৬০ শতাংশ আছে ফ্রাংকফুর্ট শহরের নামে আর বাকি ৪০ শতাংশ হেস রাজ্যের মালিকানায়।
সংবাদ সম্মেলনে মেসে ফ্রাংকফুর্ট গ্রুপের মার্কেটিং কমিউনিকেশনের ডিরেক্টর এরডমান কিলিয়ান, মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ওমর সালাহউদ্দীন, মেসে ফ্রাঙ্কফুর্টের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর নাজনীন সালাহউদ্দীন, বাংলাদেশে মেসেফ্রাঙ্কফুর্টের হেড অব অপারেশন্স রুমানা আফরোজ প্রমুখ।








