শিশুসুলভ চেহারায় প্রতিপক্ষের রক্ষণে ত্রাস ছড়াতেন বলে স্প্যানিশরা ভালোবাসে তার নাম দিয়েছিলেন ‘এল নিনো’। যার অর্থ বাচ্চা। কিন্তু এল নিনো রূপী ফার্নান্দো তোরেস আড়াল হতে হতে একটা সময় এতটাই চোখের অগোচরে চলে গেলেন যে, তাকে ভুলে যাওয়াই শুরু করলেন ভক্তরা। সবাইকে নিজের কথা মনে করিয়ে দিতে তাই আবারও সামনে আসতে হল। এসেই জানিয়ে দিলেন, বল পায়ে ত্রাস ছড়াতে দেখা যাবে না আর তাকে।
শুক্রবার নিজের ১৮ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ফার্নান্দো তোরেস। এক টুইটে জানিয়ে দিয়েছেন, আর নয় মাঠের ফুটবল।
ক্যারিয়ারে বেশ বর্ণাঢ্য সময়ই কাটিয়েছেন তোরেস। ছিলেন স্পেনের সোনালি যুগের সেরা ফরোয়ার্ডদের একজন। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের যুব একাডেমি থেকে উঠে এসে ২০০৩ সালে জাতীয় দল স্পেনের হয়ে অভিষেক। ২০০৮ সালে জার্মানির বিপক্ষে ইউরোর জয়সূচক গোলটি এসেছিল তার থেকেই। ২০১০ সালে স্প্যানিশদের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়েও ছিল সেরা অবদান।
২০১২ ইউরোতেও সমান উজ্জ্বল ছিলেন তোরেস। সে আসরে ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। সেবারও ইউরোর শিরোপা নিজেদের দখলে রাখে স্পেন। জাতীয় দলের হয়ে ১১০ ম্যাচে তোরেসের গোল ৩৮টি। যা স্প্যানিশদের তৃতীয় সর্বোচ্চ। ৫৯ গোলে ডেভিড ভিয়া ও রাউল ৪৪ গোলে কেবল তার থেকে এগিয়ে।
ক্লাব ফুটবলেও ছিলেন সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ফুটবলারদের একজন। লিভারপুলের হয়ে চার মৌসুমে ১৪২ ম্যাচে ৮১ বার বল জালে জড়িয়েছেন। তারপর রেকর্ড ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডে ২০১১ সালে পাড়ি জমান চেলসিতে। ব্লুজদের হয়ে জেতেন এফএ কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর ইউরোপা লিগ।
সোনালি সময়ে বারবার হানা দিয়েছে চোট। শেষ পর্যন্ত এই চোটের কারণেই দিনে দিনে আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। চেলসি থেকে এসি মিলান, তারপর শৈশবের ক্লাব অ্যাটলেটিকোতে পাড়ি জমান। সেখান থেকে গত জুলাইয়ে যোগ দেন জাপানের ক্লাব সাগান তোসুতে। কিন্তু চোটের কারণে সেখানেও থাকতে হয়েছে মাঠের বাইরে।
রোববার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন তোরেস। সেখানেই জানাবেন বিদায়ের কারণ। বিদায়ের কারণ আর যাই হোক নিজের অর্জন নিয়ে হয়তো খুব একটা আক্ষেপ থাকার কথা নয় ‘এল নিনো’র!







