বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ও সেবা খাত থেকে মোট ৪১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ১৫০ কোটি আয় করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
রোববার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বেসরকারি খাতের ভূমিকা শীর্ষক ইন্সটিটিউশনাল ডায়ালগ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা জানান। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় বাংলাদেশ মাত্র ৩ টি পণ্য রপ্তানি করতো। এখন বিশ্বের ১৯২টি দেশে ৭৭২টি পণ্য রপ্তানি করে। গত ৮ বছরে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে রপ্তানি আয় বেড়েই চলছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ (ইপিবি) সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পণ্য ও সেবায় মোট রফতানি আয় হয়েছে ৪১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার (চার হাজার ১৫০ কোটি ডলার)। এরমধ্যে পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ৩৭ বিলিয়ন ডলার ও সেবা খাতে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরুর দিকে ছিল মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার ডলার। বর্তমানে সেই রপ্তানি পৌঁছেছে ৩০ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ মোট রপ্তানির ৮১ থেকে ৮২ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে পণ্য ও সেবায় রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি খাতে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ও সেবা খাতে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল।
সপ্তম-পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হবে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, তবে এই জন্য বেসরকারি খাতকে আরো সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। বাংলাদেশ আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল ও ২০৩১ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে বলেও জানান তোফায়েল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এতে তিনি বলেন, আগামী ৪ থেকে ৬ জুলাই এসডিজির লক্ষ্য বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে রিভিউ করা হবে। এরপর ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নের পরবর্তী একশান প্লান সম্পর্কে জানানো হবে। একই সাথে তিনি স্বাধীনতার শতবর্ষে ও ২১০০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে তার একটা রুপ রেখাও দেন।
এতে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২১০০ সালকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করছে। তার নাম হবে প্ল্যান ২১০০। যে দেশ ২১০০ সালের স্বপ্ন দেখে সে দেশকে দাবিয়ে রাখা যাবেনা। এসডিজি বাস্তবায়নে শুধু সরকারি কর্মকর্তা নয়, প্রতিটি মানুষকে অন্তভূর্ক্ত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বলেন, ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পৌঁছার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা ওই সময়ের আগেই বাংলাদেশ অর্জন করবে। কারণ গত ২ বছর ধরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের উপরে রয়েছে।
দেশকে উন্নত করতে হলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তবে ঋণের সুদ অনেক বেশি। এই সুদ হার এক অংকে নেমে আসবে। আগামীকাল এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।
কারগিরি শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়ে শফিউল ইসমলাম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ১৪ শতাংশ মানুষ কারিগরি শিক্ষা নিচ্ছে। জাপানে এই হার অনেক বেশি। তাই এই শিক্ষাল হার বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।








