কতিপয় বিচারপতি বিতর্কিত রায় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কলঙ্কিত করেছেন উল্লেখ করে এর কঠোর সমালোচনা করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সীমালঙ্ঘন না করার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরে মুক্তিযুদ্ধ শহীদ জাদুঘর পরিদর্শনকালে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আ ক ম মোজাম্মেল হক।
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: দেশে আর কোনো ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করার সুযোগ নাই। মুজিব নগর সরকারের কর্মচারী নামে যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার, কাস্টমস সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি করছেন তাদের পক্ষে কতিপয় বিচারপতি রায় দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার কলঙ্কিত করেছেন।
আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন: আমরা তাদের বাদ দিয়েছি। আমরা তাদের মানি না। আদলতে কী হয়েছে আপনারা তা জানেন। এটা খুব দুঃখজনক। আমাদের কাছে না জেনে, না শুনে তাদের ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন না হয়ে যা করা হয়েছে তা ক্ষমতা ও বিচারের নামে দুর্বৃত্তায়ন করা হয়েছে। মনে রাখবেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন বলেই আপনি বিচারপতি হয়েছেন। ভুলে যাবেন না, আপনার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আমরা যুদ্ধ করিনি।
এসময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সীমালঙ্ঘন না করার জন্য অনুরোধ ও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন: বারবার তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সীমালঙ্ঘন করছে; বলে তাদের বয়সও লেখা যাবে না। ওই অপদার্থ ও কুলাঙ্গাররা স্বাধীনতার পরে যাদের জম্ম তাদেরকেও মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে! সেইসব কুলাঙ্গারদের মেনে চলতে হবে তা ভাবার কোনো কারণ নাই। জজ সাহেব-বিচারপতিরা একটু বুঝার চেষ্টা করেন। যে আদেশ মুক্তিযোদ্ধারা লাথি মেরে ফেলে দিবে ভবিষ্যতে তা না দেয়ার চেষ্টা করবেন।
মন্ত্রী বলেন: আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়পত্র ও স্থায়ী সনদপত্র দেয়া হবে। আগামীতে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নামে রাস্তা, ব্রীজ ও কালভার্টের নামকরণ করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাবেক রাষ্ট্রদুত ও মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার উল আলম সহিদ ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন। পরে তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শন করেন।







