ভবন ভাঙতে আর সময় চাওয়া হবে না এ মর্মে বিজিএমইএ’র দেয়া মুচলেকাটি সঠিক ভাবে না হওয়ায় এটি সংশোধন করে আবার দিতে বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।
এর আগে এই ভবন ভাঙতে তৃতীয়বারের মতো সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল আপিল বিভাগ বিজিএমইএকে আর সময় চাওয়া হবে না মর্মে মুচলেকা দিতে বলেন।
সে অনু্যায়ী বিজিএমইএ বুধবার আদালতে মুচলেকা দিলে সেখানে কয়েকটি বিষয়ে অস্পষ্টতা আছে উল্লেখ করে আদালত সংশোধন করে আবার মুচলেকা দিতে বলেন।
বুধবার আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে ছিলেন, অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই বহুতল বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
ওইদিনই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনিরউদ্দিন প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন। পরদিন হাইকোর্ট বিজিএমইএ ভবন কেন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।
২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন।
রায়ে বিজিএমইএ-কে নিজস্ব অর্থায়নে ভবনটি ভাঙতে বলা হয়। ভবনটি নির্মাণের আগে ওই স্থানের ভূমি যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় ফিরিয়ে দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয় রায়ে।
ওই বছরের ৫ এপ্রিল বিজিএমইএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে আপিল বিভাগ সে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ান।
তবে, ২০১৩ সালে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ। ২০১৬ সালের ২ জুন ওই লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এরপর রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) আবেদন করে বিজিএমইএ। ২০১৭ সালের ৫ মার্চ রিভিউ আবেদনও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।
এরপর ১২ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবনটি ৬ মাসের মধ্যে ভাঙার নির্দেশ দেন। ওই ৬ মাস সময় শেষ হওয়ার আগেই ভবন ভাঙতে এক বছরের সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ।
এরপর গত ৮ অক্টোবর আপিল বিভাগ বহুতল ভবনটি ভাঙতে ‘শেষ সুযোগ’ উল্লেখ করে বিজিএমইএ কে সাত মাস সময় দেন।
কিন্তু সাত মাস সময় শেষ হবার আগেই ভবন ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়ে গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগে আবেদন করে বিজিএমইএ। আবেদনের শুনানির পর এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২৭ মার্চ দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।
১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভবন নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন করেন সেসময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর থেকে বিজিএমইএ ভবনটিকে তাদের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে।







