তৈরি পোশাক প্রস্তত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর নির্বাচনকে ঘিরে নতুন প্যানেল স্বাধীনতা পরিষদ এর আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সাথে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যমান বিরোধ আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে মিমাংসা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খাইরুল আলমের বেঞ্চ ৪ মার্চ (সোমবার) এই আদেশ দেন।
আদালতে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সাবেক বিচারপতি ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী এআরএম কামরুজ্জামান কাঁকন এবং শুভ্রজিৎ ব্যানার্জি। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
বিজিএমইএর নির্বাচনের আগে সংগঠন থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে যেন হয়রানি করা না হয়, সেই আদেশও আদালত দিয়েছে বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার আলতাফ হোসেন।
ব্যারিস্টার আলতাফ হোসেন বলেন: বিজিএমইএ থেকে জাহাঙ্গীর আলমের সদস্যপদ যাতে বাতিল না হয় সে বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
তবে বিজিএমইএ বলেছে, তারা আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে এখনও কোনো কিছু জানতে পারেনি।
দীর্ঘদিন ধরে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের প্যানেলের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে আসছে বিজিএমইএ। এই দুই প্যানেলের আধিপত্য ঠেকাতে স্বাধীনতা পরিষদ নামে নতুন একটি প্যানেল গঠন করেন ডিএসএল গ্রুপের এমডি জাহাঙ্গীর আলম।
গত ফেব্রুয়ারিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরের এক বক্তব্যে আপত্তি তোলে বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। এরপর সংগঠনের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম সহ বিজিএমইএর আরো দু’সদস্য জেড এ অ্যাপারেলসের চেয়ারম্যান কাজী মেহজাবিন মমতাজ এবং ওয়েমার্ট অ্যাপরেলস লিমিটেডের পরিচালক আয়েশা আক্তারকে ৪ মার্চ বিজিএমইএ ভবনে এসে পর্ষদের কাছে তাদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কেন তাদের সদস্যপদ বাতিল করা হবে না সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
ওই চিঠি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান জাহাঙ্গীর। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর প্রার্থীর সদস্যপদ বাতিলের উদ্যোগ কেন অবৈধ নয় সে বিষয়ে তিনি হাইকোর্টে একটি রিট করেন। সেই রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট থেকে বিজিএমইএর ওই নির্দেশনার ওপর ৬ সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে স্বাধীনতা পরিষদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমি বিজিএমইএর আসন্ন নির্বাচনে একজন প্রার্থী। অথচ নির্বাচনের আগে আমার সদস্য পদ বাতিল কেন হবে না সে সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয় আমাকে। এটা কি করে হয়!
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে যারা রয়েছেন তারা আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করবেন। অতএব এই পর্ষদের অধীনে আমি ন্যায় বিচার পাবো না। তাই আমি মাননীয় উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হই।
তিনি আরও বলেন: নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর এই ধরনের উদ্যোগ বেআইনি। এছাড়া আমি লিখিতভাবে বলেছি, বিজিএমইএর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো বক্তব্য কোথাও দেইনি। তাহলে কেন আমার সদস্য পদ বাতিলের কথা উঠবে?
তবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান।
বিজিএমইএ সভাপতি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: তিনি (জাহাঙ্গীর আলম) হাইকোর্টে রিট করছেন কি না, জানি না। তবে তিনি একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন পারিবারিক সমস্যার কারণে ৪ মার্চ বিজিএমইএতে উপস্থিত হতে পারবেন না। যেহেতু তিনি আমাদের একজন সম্মানীয় সদস্য, তাই তাকে বিজিএমইএতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য ১৩ মার্চ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশের কোনো তথ্যও বিজিএমইএ’র কাছে আসেনি বলেও জানান সিদ্দিকুর রহমান।







