পরিচালনা পর্ষদের ২০১৭-১৮ মেয়াদের নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের জটিলতার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন-বিজিএমইএ। সংগঠনের বিদ্যমান দুই জোট সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম নির্বাচন না করে সমঝোতার মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটাধিকার প্রয়োগে পরিচালনা পরিষদ গঠন করতে চান উদ্যোক্তাদের একটি অংশ। এ জন্য ‘স্বাধীনতা পরিষদ বিজিএমইএ’ নামে নতুন একটি পরিষদও গঠন করেছেন তারা। সেখানে ‘ডিজাইন অ্যান্ড সোর্স’ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। আছেন আরো ৯ জন সদস্য।
চ্যানেল আই অনলাইনকে নতুন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে আত্মপ্রকাশ করবে ‘স্বাধীনতা পরিষদ বিজিএমইএ’।
সমঝোতার পক্ষে থাকা বর্তমান কমিটি এরই মধ্যে আগামী মেয়াদের জন্য সভাপতিও বাছাই করে ফেলেছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে বিজিএমইএ-এর একজন সাবেক সভাপতির নামও ঘোষণা করা হয়েছে।
‘স্বাধীনতা পরিষদ বিজিএমইএ’ নেতাদের দাবি, ‘সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে পোশাকখাতকে। তাই সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব গঠনের বিকল্প নেই। তাই কোনোভাবেই সমঝোতার কমিটি মেনে নেয়া হবে না। যে কোনো উপায়ে হোক ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হবে।
বিজিএমই বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর। তবে আদালতের নির্দেশে বিজিএমইএর ভবন ভেঙ্গে ফেলা ও উত্তরায় নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানো হয়। সেই হিসাবে আগামী মার্চে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
সম্প্রতি ২০১৭-১৮ মেয়াদে বিজিএমইএর নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য তফসিলও ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ মার্চ ভোট হওয়ার কথা থাকলেও নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
সংগঠনটির ‘এক্স বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট ফোরাম’ এর ‘কথিত’ সমঝোতা বা আপোসের মাধ্যমে কমিটি গঠন করার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ পোশাকশিল্প মালিকরা।
এ বিষয়ে নতুন পরিষদ গঠনে যুক্ত থাকা একজন উদ্যোক্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বিজিএমইএ-এর নির্বাচনে ক্ষমতা ভাগাভাগির নামে কথিত সমঝোতা মেনে নেয়া হবে না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরাসরি ভোট দেয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সাবেক সভাপতিদের দুইপক্ষের চাপিয়ে দেওয়া সভাপতি, সহ-সভাপতি ও পরিচালক নিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
জানা গেছে, সর্বশেষ পোশাকশিল্প মালিকদের ভোটে ২০১৩ সালে বিজিএমইএ নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম।
এরপর ২০১৫ সালে পোশাকশিল্প মালিকদের দুই জোট সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম নেতারা সমঝোতায় সম্মিলিত পরিষদের সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি নির্বাচিত করে বিজিএমইএ বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে।
সেই সমঝোতার ধারাবাহিকতায় এবারও বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতিরা ২১ ডিসেম্বর এক সভায় আগামী ২০১৭-১৮ মেয়াদের জন্য ফোরাম সভাপতি হিসাবে রূপা গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল ইসলামকে নির্বাচন করেন। এরপরই উদ্যোক্তাদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়। সমঝোতার বিপক্ষে তীব্র আপত্তি জানান পোশাকশিল্প মালিকদের একাংশ।
জানা গেছে, পোশাক খাতে বর্তমানে ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদ নামে দুটি জোট রয়েছে। এদের সমঝোতার বিপক্ষে দাঁড়াতে চায় নতুন স্বাধীনতা পরিষদ বিজিএমইএ।
এই পরিষদের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বিজিএমইএর কথিত সমঝোতায় দুই মেয়াদে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম থেকে পরিচালক নির্বাচন করা হবে- এমন তথ্য বিজিএমইএ-এর কোনো অফিশিয়াল নিয়ম নয়। বর্তমানে ৮০ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক কারখানার মালিকেরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচন করতে চান। তারা বরাবরই সমঝোতায় কমিটি গঠনের বিপক্ষে মত দিয়েছেন
তিনি আরো বলেন, আতিকুল ইসলাম যখন বিজিএমইএ-এর সভাপতি ছিলেন, তখন একচেটিয়া ভোট হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাদের নমিনেশন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। ফলে ৩ থেকে ৪ হাজার ভোটের মধ্যে কেবল ৫ থেকে ৬ জন ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। এরপর সমঝোতায় বর্তমান কমিটি গঠন করা হয়।
‘এক্স বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট ফোরামে’ যারা আছেন তাদের অনেকেরই এখন পোশাক কারখানা নাই; তাহলে তাদের দেয়া সিদ্ধান্ত কেন মানতে হবে? এমন প্রশ্ন রেখে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পোশাক মালিকরা মনে করেন- তাদের দাবি দাওয়া আদায় করতে পারবে ও এ খাতকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম এমন উদ্যোক্তাদের ভোটের মাধ্যমে পরিচালক বানানো উচিত। অর্থাৎ কমিটি গঠনে বর্তমানে যে ধারা বিদ্যমান রয়েছে সেই গতানুগতিক ধারাকে ভাঙ্গতে চান উদ্যোক্তারা।
তবে বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পরিষদ সম্পর্কে বর্তমান কমিটি সব কিছুই জানে। এমনকি শীর্ষ পর্যায়ের কেউ কেউ এই পরিষদকে সমর্থনও দিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ-এর সহসভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আর বর্তমান কমিটির কেউ এই পরিষদে যুক্ত রয়েছে কি না সে বিষয়েও আমি কিছু জানি না।
‘তবে কেউ কেউ ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে জোর দাবি তুলছেন-এমন একটি বিষয় বিভিন্ন মহলে শুনছি।’








