প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করতে সব ধরনের সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে বিচার বিভাগ।
একই সঙ্গে বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানান তিনি। অর্থনীতির মতো বিচার ব্যবস্থায়ও বাংলাদেশ এশিয়ার রোল মডেল বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
বিচার বিভাগের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা জন্যই জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনের আয়োজন বলে জানান প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।
নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, গত বছরের তুলনায় মামলা নিষ্পত্তির হার বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জাতীয় ৪ নেতা হত্যা মামলার বিচারের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে অগ্রগন্য ভূমিকা রেখেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জেএমবির নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং বিচারক হত্যায় রায় প্রদান করে সবধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। অনেক যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন করে বিশ্ববাসীর আস্থা অর্জন করছে বিচার বিভাগ। এই প্রসঙ্গে নুরেমবার্গ হত্যাকাণ্ড, সার্বিয়া হত্যাকাণ্ড এবং কম্বোডিয়ার বিচারের চেয়েও এই বিচার অনেক স্বচ্ছ এবং দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়ে এসকে সিনহা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের বিষয়ে নিজের মত তুলে ধরেন। বলেন, বিভাগীয় শহরগুলিতে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের ব্যাপারে বাহিরের আইনজীবীদের দাবী জোড়ালো হচ্ছে। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সম্মতি প্রদান করেছেন। প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করা হলে সার্কিট বেঞ্চ বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বিচার বিভাগের উন্নয়নে সবার সহযোগিতাও চান প্রধান বিচারপতি। বলেন, বাংলাদেশ যেমন বিশ্ব অর্থনীতির রোল মডেল হিসেবে বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছে। তেমনভাবে সবার আন্তরিক প্রয়াস ও সবার সার্বিক সহযোগিতায় অচিরেই বাংলাদেশ বিচার ব্যবস্থায় বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
সর্বোচ্চ আদালতের সাথে পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বিচার বিভাগের গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।







