দেশের আদালতগুলোতে বছরের পর বছর ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার কথা অনেক পুরনো। বিভিন্ন সময় ৩৩ লাখের বেশি মামলার জট কমানোর উদ্যোগের কথা শুনলেও তার সফলতা তেমন একটা দৃশ্যমান হয়নি, উদ্যোগের বিষয়টিও ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এজন্য যেকোনো প্রধান বিচারপতি নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণ করলেই মামলার জট কমানোর আশ্বাস ছিল তাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। তাদের চেষ্টার কোনোরকম কমতি হয়তো ছিল না, কিন্তু সফলতা তেমন দৃশ্যমান হয়নি। তাই বছরের পর বছর বিচারপ্রার্থী মানুষ অবর্ণণীয় ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, কিংবা বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে হয়েছে অনেককে। তবে আশার খবর হলো- এই ভোগান্তি নিরসনের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ‘জাতীয় আইন ও বিচার সমন্বয় কমিটি’। আইন ও বিচার বিভাগ এবং ইউএনডিপি’র যৌথ উদ্যোগে গঠিত এ কমিটিতে সভাপতিত্ব করবেন আইনমন্ত্রী। এছাড়া আরও কয়েকজন মন্ত্রী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইন কমিশনের প্রতিনিধি, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রতিনিধি, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, কারা মহাপরিদর্শকসহ আইন ও বিচার প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্টরা এ কমিটিতে থাকবেন। আমরা মনে করি, দ্রুত ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে এটি নিঃসন্দেহে ভালো একটি উদ্যোগ। এজন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। তবে ন্যাশনাল জাস্টিস কোঅর্ডিনেশন কমিটির (এনজেসিসি) যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান বিচার ব্যবস্থার যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা খুবই শঙ্কার। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতায় ৩৩ লাখ মামলা এখনো বিচারের অপেক্ষায়। কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির তুলনায় বিচারাধীন মামলার আসামির সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত। এজন্য কারাগারে থাকা বিচারাধীন মামলার আসামিদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা দেয়া যাচ্ছে না। তদন্তকারী সংস্থা, কারা কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসকসহ বিচার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে অসমন্বয় এজন্য দায়ী।’ কারা মহাপরিদর্শকের এই কথা কারাবন্দীদের মানবাধিকারের বিষয়টি নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। শিগগিরই এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ। কারণ, সাধারণ মানুষের মনে আইন-বিচারের প্রতি আস্থার জন্য সঠিক সময়ে সুবিচার দরকার। এ কারণে মামলা জটিলতা দূর করতে বাংলাদেশে এনজেসিসির যাত্রা শুরুর দিনটিকে ঐতিহাসিক দিন বলা যায়। যুক্তরাজ্য, নেপাল, ফিলিপিন্স এবং নিউজিল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশে বিচার সমন্বয় সংস্থাগুলো মামলাজট কমাতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশেও জাতীয় আইন ও বিচার সমন্বয় কমিটি সফলভাবে পথ চলতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কারা মহাপরিদর্শকের ভাষায় আমরাও বলতে চাই, এনজেসিসি’র মাধ্যমে দেশের মামলাজট দূর হবে এবং কারাগারে স্বস্তি আসবে।







