আদালত

বিচারবিভাগ দুর্বৃত্তায়ন ও রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এলো: অ্যাটর্নি জেনারেল

বিচারবিভাগের প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

বিচারবিভাগের কর্মকর্তারা এক সভায় অংশগ্রহণ করছেন, যেখানে তারা বিচারবিভাগের উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার বিষয়ে আলোচনা করছেন।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় বহালের মধ্য দিয়ে বিচারবিভাগ স্বাধীন ভাবে দায়িত্ব পালনের একটা জায়গায় গেলো বলে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান। দুর্বৃত্তায়ন ও রাজনীতি থেকেও বিচারবিভাগ বেরিয়ে এলো বলে জানান তিনি।

রোববার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক রায়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অবশ্যই আজকের রায়টি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক। আজকের এই রায়ের ফলে বিচারবিভাগ স্বাধীন ভাবে দায়িত্ব পালনের একটা জায়গায় গেলো এবং বিচারবিভাগ দুর্বৃত্তায়ন ও রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এলো।’

এদিকে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ফেরা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ওপর ঐতিহাসিক একটি দায়িত্ব অর্পিত হলো। তারা যাতে তাদের এই শক্তি, মেরুদণ্ড সোজা রেখে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারেন। যদি তারা (বিচারবিভাগ) এটাকে কাজে না লাগান তাহলে ইতিহাস তার বিচার করবে।’

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের বিধান সংক্রান্ত সংবিধানের বহুল আলোচিত ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা ‘রিভিউ’ রোববার পর্যবেক্ষণ সহ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

সেই সাথে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ থেকে বাতিল ২ থেকে ৮ উপ-অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল (রিস্টোর) করে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ রায় দেন। এই রায়ের ফলে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় বহাল রইলো এবং বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ফিরল বলে জানান আজ শুনানিতে অংশ নেয়া সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আদালতে রিটকারি পক্ষের শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান। আর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট ভবন ও সংবিধান লোগো. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট করেন। সে রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। হাইকোর্টের দেয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। সে আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৩ জুলাই ততকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে রায় দেন। বহুল আলোচিত ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে, দেশের গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। তবে আপিল বিভাগের দেয়া সে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিষয়:ষোড়শ সংশোধনী সংবিধান সুপ্রিম কোর্ট

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…