ভারতের বাংলা সিরিয়ালের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হবে। মডেল সোনিকা সিংহ চৌহানের মৃত্যুর পেছনে সেদিন গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে থাকা বন্ধু বিক্রমের বেসামাল ও বেপরোয়া আচরণকে দায়ি করেছে পুলিশ। বিক্রমের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত ভাবে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আলিপুরে অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে পুলিশ এই অভিযোগ করেছে। জানা গেছে, আদালতে পুলিশের আবেদন গৃহীত হয়েছে। এর ফলে বিক্রমকে গ্রেফতারে আর কোনো বাধা নেই। শেষ পর্যন্ত আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজা হতে পারে বিক্রমের।
আদালতে পুলিশের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিক্রম দুর্ঘটনার আগে দু’টি পানশালায় দফায় দফায় মদ্যপান করেন। ফরেনসিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই রাতে বিক্রমের গাড়ির গতি একবারও ৯০-এর নিচে নামেনি। এক সময়ে তা ১১৫ পর্যন্ত উঠেছিল। দুর্ঘটনার ঠিক সাড়ে চার সেকেন্ড আগে গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০৫ কিলোমিটার। দুই সেকেন্ড আগে ছিল ঘণ্টায় ৯৩ কিলোমিটার। দুর্ঘটনাটি ঘটার দেড় সেকেন্ড আগেও ব্রেক কষেননি বিক্রম। যেহেতু সামনের দিকে ধাক্কা লাগেনি, তাই গাড়ির এয়ারব্যাগও খোলেনি। বিক্রমের সিটবেল্ট বাঁধা থাকলেও সোনিকার ছিল না।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে সোনিকার পরিবার জানিয়েছে, তারা শুধু চান, প্রকৃত সত্যটা সামনে আসুক।

গত ২৯ এপ্রিল বিক্রম চট্টোপাধ্যায় গাড়ি দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন । গাড়িতে এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জনপ্রিয় মডেল সোনিকা সিংহ চৌহান। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ভোর চারটা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতায় রাসবিহারী মোড়ের কাছে লেক মলের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গড়িয়াহাট থেকে রাসবিহারীর দিকে সাদা রঙের একটি গাড়ি ছুটে আসছিল। তখন চালকের আসনে ছিলেন বিক্রম। তাঁর পাশে বসেছিলেন সোনিকা। লেক মলের সামনে হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়ে গাড়িটি। এরপর গাড়িটি একটি দোকানে ধাক্কা মেরে ছিটকে গিয়ে আবার ধাক্কা মারে ডিভাইডারে। দুমড়ে মুচড়ে যায় গাড়িটি।
এরপর আশেপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে বাইপাসের পাশে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানান, মাথা এবং দেহের বিভিন্ন জায়গা থেকে মারাত্মক রক্তক্ষরণে সোনিকা মারা যান। বিক্রমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।








