২০০৮ সালের মতো একটি পাতানো নির্বাচন করে সরকার বিএনপিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, অনেকে বলে সরকার নাকি ২০১৪ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। আমি বলছি তারা ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন নয়, ২০০৮ সালের মতো পাতানো নির্বাচন করে বিএনপিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যেন সরকার তাদের এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে না পারে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, চুপ থাকার সময় শেষ। আমাদের ওপর যেমন অত্যাচারের খড়গ নেমে এসেছে আপনাদের উপরও তা আসবে। চুপ থাকলে বাঁচতে পারবেন না। কথা বলতে হবে। প্রতিবাদ জানাতে হবে। দেশে যেটা চলছে সেটা জঙ্গল আইন। শুধু মানবধিকার নয়, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, আবাসন, চিকিৎসা- মৌলিক অধিকার। খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ৷ তিনি যদি চিকিৎসা চান সেটা মৌলিক অধিকার। সরকার সেটা তাকে না দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।
তিনি বলেন, সরকারের নেতারা ঠাট্টা করে বলেন, বিএনপি নাকি আন্দোলন করতে জানে না। আমিও সেটা স্বীকার করি। আমরা আওয়ামী লীগের মতো লগি বৈঠার আন্দোলন করতে জানি না। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে আমরা সরকারকে বিদায় করবো। আমি একটি ছোট্ট চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, আসুন পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনীকে ব্যারাকে রেখে রাস্তায় নামুন। আমরাও নামবো। দেখি কে জেতে, আর কে পরাজিত হয়। লাঠি দিয়ে সাপ মারার মতো মানুষ হত্যা করা আন্দোলন নয়।
‘দরিদ্র মানুষের অর্থ ব্যয় করে কিছু সার্টিফিকেট নিতে পারে সরকার। কিন্তু এতে তারা টিকে থাকতে পারবে না। বিশ্ববাসী ধীরে ধীরে এই সরকারের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বিশ্বের নানা দেশ থেকে প্রতিবাদ আসছে’, বলেন বিএনপির এই নেতা।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের ব্রিটিশ আইনী পরামর্শক লর্ড কার্লাইলের বিষয়ে তিনি বলেন, তাকে দিল্লি থেকে ব্রিটেনে ফেরত যেতে বলা হয়েছে। ভারতে তাকে আসতে দিলো না দিলো তা নিয়ে আমি বলবো না। এটা ভারত সরকারের বিষয়। কিন্তু তিনি বাংলাদেশ আসতে পারলো না কেন? প্রশ্নটি আজকে সরকারকে করতে চাই। একজন মানুষের আইনি অধিকার পাওয়ার অধিকার আছে। মানুষের অধিকারের আইন পার্লামেন্টে পাশ হয় না। আইনি অধিকার জন্মগত অধিকার। খালেদা জিয়া সে অধিকার থেকে বঞ্চিত।
বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করে কোনো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। কেউ যদি খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে তা ভেবে থাকে তাহলে তা ভুল।
ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাব আয়োজিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আজিজুল হক।







